বিধায়ক তহবিলের রাস্তা সংস্কারে বাধা, ইন্দ্রনগরে উত্তেজনা
আগরতলা, ১৬ জুন (হি.স.) : বিধায়ক এলাকার উন্নয়ন তহবিলের অর্থে রাস্তা সংস্কারের কাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলায় ইন্দ্রনগর এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘটে ৬-আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সূর্যসেন স্কুল সংলগ্ন এলা
রাস্তা সংস্কারে উত্তেজনা


আগরতলা, ১৬ জুন (হি.স.) : বিধায়ক এলাকার উন্নয়ন তহবিলের অর্থে রাস্তা সংস্কারের কাজে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলায় ইন্দ্রনগর এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘটে ৬-আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সূর্যসেন স্কুল সংলগ্ন এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনৈকা মহিলা নেত্রীর বাধার কারণে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সংস্কারকাজ আটকে ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন, কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং পুলিশ। তাঁদের উপস্থিতিতেই পুনরায় রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সূর্যসেন স্কুলের পাশের এই রাস্তা দিয়ে অন্তত ১৫টি পরিবারের নিয়মিত যাতায়াত। আগরতলা পুর নিগমের নথি ও মানচিত্রেও রাস্তার অস্তিত্ব উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছিল। সেই সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্থানীয়রা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের দ্বারস্থ হন।

এলাকাবাসীর আবেদনে সাড়া দিয়ে বিধায়ক তাঁর এলাকার উন্নয়ন তহবিল থেকে রাস্তা সংস্কারের জন্য অর্থ মঞ্জুর করেন। কিন্তু অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় নেত্রী সীমা দাস ওই রাস্তা তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবি করে গত এক বছর ধরে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দিয়ে আসছেন। ফলে অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পরও রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি পুনরায় রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে নর্দমা উঁচু করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। অভিযোগ, মঙ্গলবার কাজ চলাকালীন হঠাৎ ঘটনাস্থলে এসে সীমা দাস নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং রাস্তার কিছু অংশ ভেঙে দেন। এর জেরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এবং পুলিশকে অবহিত করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধায়ক, কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে তাঁদের উপস্থিতিতেই পুনরায় রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়।

এদিন জনৈকা স্থানীয় মহিলা বাসিন্দা জানান, বিয়ের পর থেকে গত ২৫ বছর ধরে তিনি ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। সরকারি মানচিত্রেও রাস্তার উল্লেখ রয়েছে। অথচ হঠাৎ করেই সীমা দাস রাস্তাটিকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবি করছেন। তাঁর অভিযোগ, এই বাধার কারণেই এক বছর ধরে রাস্তার উন্নয়নকাজ বন্ধ ছিল এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, “আইন মেনেই এবং সরকারি নিয়ম অনুসরণ করেই রাস্তার উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে। জনস্বার্থে নেওয়া উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়া কোনওভাবেই কাম্য নয়। মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য এই রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে এবং তা সম্পূর্ণ করা হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ব্যক্তিগত দাবি তুলে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়ার প্রবণতা জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত।

ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে রাস্তা সংস্কারের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়, সেই দাবিও তুলেছেন তাঁরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande