
বাঁকুড়া, ১৭ জুন (হি.স.): রানিবাঁধের বিজেপি কর্মী অজিত মুর্মু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও দ্রুত বিচার চেয়ে প্রায় আট বছর পর ফের সরব হল তাঁর পরিবার। বুধবার নিহত অজিত মুর্মুর স্ত্রী, ১৬ বছরের ছেলে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব মিছিল করে থানায় গিয়ে ফের লিখিত আবেদন জমা দেন। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী ১৯ জুনের পর বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১২ জনের নাম উল্লেখ করে নতুন করে তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। নিহতের স্ত্রী উর্মিলা মুর্মুর অভিযোগ, ঘটনার সময় থানায় অভিযোগ জানানো হলেও তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই রাজ্যে পরিবর্তনের পর এবার ফের ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁরা সরব হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার পথে রানিবাঁধে বিজেপি কর্মী অজিত মুর্মুর ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। মিছিল করে বিডিও অফিসের দিকে যাওয়ার সময় পথ আটকায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, ওই সময় লাঠি, রড, টাঙি ও বল্লম নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালানো হয় বিজেপি কর্মীদের ওপর।
ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রানিবাঁধ থানার পুলিশ। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা চলতে থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এই হামলায় মোট ১২ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হন।
আহতদের প্রথমে রানিবাঁধ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে অজিত মুর্মুসহ কয়েকজনকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও মাথা ও অন্ত্রে গুরুতর আঘাতের কারণে অজিত মুর্মুর মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।
ঘটনার পর রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রানিবাঁধে এসে তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছিল। নিহত অজিত মুর্মু ছিলেন রানিবাঁধ দক্ষিণ মণ্ডল কমিটির সম্পাদক এবং পুনসা গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘ আট বছরেও ন্যায় না পাওয়ায় এবার তারা নতুন করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট