মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে বিস্ফোরণে বাড়িতে ধস, মৃত ৪ বছরের শিশু
শিবপুরী, ১৭ জুন (হি.স.):মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার খানিয়াধানা থানা এলাকার গুদার গ্রামে বুধবার সকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি বাড়ি ধসে পড়ে। ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে চার বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের আরও চার সদস্য গুরুতর
মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে বিস্ফোরণে বাড়ি ধস,মৃত্য ৪ বছরের শিশু


শিবপুরী, ১৭ জুন (হি.স.):মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার খানিয়াধানা থানা এলাকার গুদার গ্রামে বুধবার সকালে ভয়াবহ বিস্ফোরণে একটি বাড়ি ধসে পড়ে। ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে চার বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের আরও চার সদস্য গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ প্রাণ সিং প্রজাপতির বাড়িতে তাঁর স্ত্রী রোশনি প্রজাপতি গ্যাস সিলিন্ডারের উনুনে সকালের খাবার তৈরি করছিলেন। সেই সময় তাঁদের চার বছরের মেয়ে জাহ্নবী ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। বাড়িতে ছিল দেড় বছরের ছেলে শিবা এবং প্রতিবেশী এক কিশোরও। পরিবারের প্রবীণ সদস্য ফুল সিং প্রজাপতি বাড়ির বাইরে বসেছিলেন। হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গোটা বাড়ি কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির ছাদ ও দেওয়াল ভেঙে পড়ে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ফুল সিং প্রজাপতি পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করতে ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েন। কিন্তু তিনিও আগুনে দগ্ধ হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে খানিয়াধানা থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে জেসিবি মেশিনের সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় জাহ্নবীর নিথর দেহ। প্রাথমিক তদন্তে বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে একাধিক সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, প্রাণ সিং প্রজাপতি একটি মুদি দোকান চালানোর পাশাপাশি খোলা জায়গায় ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রির কাজও করতেন। প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান, বাড়িতে মজুত থাকা দাহ্য পদার্থে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে রান্না করা হচ্ছিল, তার পাশাপাশি বাড়িতে আরও দুটি সিলিন্ডার রাখা ছিল। গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, সেগুলির মধ্যে একটি সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ হয়। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় একটি সিলিন্ডারের খোঁজ না মেলার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শিবপুরীর জেলা শাসক অর্পিত বর্মা, পুলিশ সুপার ইয়াংচেন দোলকার ভুটিয়া, বিধায়ক প্রীতম লোধি-সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। জেলা শাসক জানান, প্রাথমিকভাবে বাড়িতে মজুত থাকা ডিজেল ও পেট্রোলে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক তহসিলদারকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিবপুরী মেডিক্যাল কলেজের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. আশুতোষ চৌরাসিয়ার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোশনি প্রজাপতির শরীরের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ, এক বছরের শিব প্রজাপতির ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ, ১০ বছরের অঙ্কেশের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ এবং প্রাণ সিং প্রজাপতির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। আহতদের প্রথমে শিবপুরী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গোয়ালিয়রে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁদের সকলের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস




 

 rajesh pande