
কলকাতা, ১৭ জুন (হি.স.): আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির গত বছর ডিসেম্বরের কলকাতা সফরকালীন অব্যবস্থা সংক্রান্ত বিতর্ক এবার এক নতুন মোড় নিল। মেসির দলের এক সদস্য বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে একটি ই-মেল পাঠিয়েছেন, যেখানে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে সরাসরি এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, ই-মেল প্রেরণকারী ব্যক্তি মেসির ‘গোট ট্যুর’ চলাকালীন তাঁর উপদেষ্টা হিসেবে কলকাতায় এসেছিলেন এবং কর্মসূচির দিন মেসির সঙ্গে মাঠেই উপস্থিত ছিলেন। ই-মেলে দাবি করা হয়েছে, অরূপ বিশ্বাস মাঠে প্রবেশ করার পরেই পুরো ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। তিনি মাঠে পৌঁছে এমন কিছু কাজ করেছিলেন, যা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ ছিল না। ই-মেলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত এই পরিস্থিতির জন্য কোনওভাবেই দায়ী ছিলেন না এবং মেসি নির্ধারিত সময়ের আগে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন ছেড়ে চলে যাওয়ার পেছনেও তাঁর কোনও দোষ ছিল না। এই প্রসঙ্গে শতদ্রু দত্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন যে, এই ই-মেলটি পুলিশি তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাহায্য করতে পারে।
মেসির কলকাতা সফরে হওয়া অব্যবস্থা নিয়ে শতদ্রু দত্ত এর আগেও লাগাতার অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এবার তিনি অরূপ বিশ্বাসের পাওয়া আইনি স্বস্তি বা রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন। মঙ্গলবার তাঁর আইনজীবী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন। আদালত মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই এর শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে নিজের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর গ্রেফতারি এড়াতে টালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস হাইকোর্টের কাছে সুরক্ষার আবেদন জানিয়েছিলেন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং বিধাননগর পুলিশকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে বলেছিলেন।
শতদ্রু দত্ত হাইকোর্টের সেই নির্দেশকেই এবার উচ্চতর বেঞ্চে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ডিসেম্বরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত মেসির এই মেগা অনুষ্ঠানের জন্য মোট ৭০ হাজার টিকিট ছাপা হয়েছিল, যার মধ্যে ২২ হাজার টিকিট তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজের পদ ও প্রভাব খাটিয়ে হাতিয়ে নিয়েছিলেন। শতদ্রুর দাবি, এই টিকিটগুলি পরিচিতদের মধ্যে বিলি করার পাশাপাশি বিক্রিও করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে তৈরি হওয়া সমস্ত বিশৃঙ্খলার জন্য অরূপ বিশ্বাসই এককভাবে দায়ী ছিলেন বলে দাবি করে তিনি থানায় এফআইআর দায়ের করেন এবং সম্পূর্ণ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানান। এই মামলার তদন্ত চলাকালীন পুলিশ অরূপ বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশও পাঠিয়েছিল। তবে তিনি প্রথমে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা থেকে ছাড় চান এবং পরবর্তীতে গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা লাভ করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি