
আগরতলা, ১৭ জুন (হি.স.) : রাজধানী আগরতলায় যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ ও অশালীন আচরণের অভিযোগে সিআরপিএফ-র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্টের বিরুদ্ধে এবার রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের দ্বারস্থ হল প্রদেশ যুব কংগ্রেস। বুধবার যুব কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সনের কাছে ডেপুটেশন প্রদান করে অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়।
জানা গেছে, গত ১৫ জুন রাজধানী আগরতলায় নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রেখে যুব কংগ্রেস একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে। যুব কংগ্রেসের অভিযোগ, ওই কর্মসূচি চলাকালীন সিআরপিএফ-র ১৪০ নম্বর ব্যাটেলিয়নের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ডেন্ট রাম কুমারের নেতৃত্বে একদল জওয়ান পুলিশের নির্দেশ ছাড়াই আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ চালায়। এতে যুব কংগ্রেসের একাধিক নেতা-কর্মী আহত হন এবং বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
শুধু লাঠিচার্জই নয়, সংশ্লিষ্ট সিআরপিএফ আধিকারিক আন্দোলনকারী যুব কংগ্রেস কর্মীদের মায়েদের উদ্দেশে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগ সংগঠনের। এই ঘটনাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর আঘাত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে দাবি করেছে যুব কংগ্রেস।
ঘটনার পরপরই পশ্চিম আগরতলা থানায় অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। এরপর মঙ্গলবার প্রদেশ কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের নেতারা যৌথভাবে সিআরপিএফ-র ডিআইজি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার যুব কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের দফতরে গিয়ে কমিশনের চেয়ারপার্সনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা।
মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নীলকমল সাহা বলেন, “প্রতিবাদ করা গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকার প্রয়োগ করতেই ১৫ জুন আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম। কিন্তু বিজেপি সরকার এবং তাদের অনুগত শক্তিগুলি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার চেষ্টা করছে। সেদিন সিআরপিএফ জওয়ানদের আচরণ তারই উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্ত সিআরপিএফ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত সেই সময়সীমার তিন দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
যুব কংগ্রেসের দাবি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বলপ্রয়োগ ও অশালীন আচরণের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ