
নয়াদিল্লি, ১৮ জুন (হি.স.): আগামী ২১ জুন হতে চলা পুনর্নির্ধারিত নিট-ইউজি পরীক্ষার আগে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম-এর উপর কেন্দ্র সরকারের আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায় সংরক্ষিত রাখল দিল্লি হাই কোর্ট। শুনানিতে কেন্দ্র সরকারের তরফে টেলিগ্রামকে কার্যত ‘নতুন ডার্ক ওয়েব’ বলে অভিহিত করা হয়। সরকারের দাবি, এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই নানা বেআইনি কর্মকাণ্ড ও অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির পক্ষে অপরাধীদের শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, এ বিষয়ে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই হলফনামা জমা দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, টেলিগ্রাম এখন এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে অপরাধমূলক কার্যকলাপ সংগঠিত করা এবং তার প্রমাণ গোপন রাখা তুলনামূলকভাবে সহজ। তিনি আদালতে বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় টেলিগ্রামের ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে এবং সেই কারণেই পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
তুষার মেহতা আদালতকে জানান, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৯এ ধারার অধীনে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক শুধুমাত্র ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি পৃথক এক নির্দেশে ৩০ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রামের মেসেজ এডিট করার সুবিধা (এডিট ফিচারস ) বন্ধ রাখার নির্দেশও জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, ২১ জুন পুনরায় হতে চলা নিট-ইউজি পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরমণিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকারের নির্দেশ সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয়। তাঁর মতে, ভারতের মতো দেশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'আনুপাতিকতার নীতি' (প্রিন্সিপল অফ প্রপোরশনালিটি )-র দোহাই দিয়ে সরকারি পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে পারে না। তিনি আরও জানান, সরকার অন্য কোনও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি, কারণ সেগুলির নিজস্ব কার্যকর নজরদারি ও ফিল্টারিং ব্যবস্থা রয়েছে।
শুনানির সময় আদালত টেলিগ্রামের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলে, যদি সত্যিই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী সময়ে নির্দেশ জারি করে কী লাভ? ততক্ষণে তো ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টেলিগ্রামের নিজস্ব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী হওয়া উচিত, তা-ও জানতে চায় আদালত।
এর জবাবে টেলিগ্রামের পক্ষে আইনজীবী ধ্রুব মেহতা বলেন, সংস্থা সমস্ত আইনগত ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড মেনেই কাজ করেছে। তিনি সুপ্রিম কোর্টের অনুরাধা ভাসিন মামলার রায়েরও উল্লেখ করেন।
এর আগে ১৭ জুন দিল্লি হাই কোর্ট কেন্দ্র সরকারকে নোটিস জারি করেছিল।
টেলিগ্রামের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি বিধির রুল ৯ অনুযায়ী শুধুমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতেই এ ধরনের পদক্ষেপ করা যায়। কিন্তু কেন্দ্র সরকার ৬৯এ ধারা প্রয়োগ করেছে, যা তাদের মতে আইনসঙ্গত নয়।
টেলিগ্রামের আরও অভিযোগ, কেন্দ্র সরকারের নির্দেশের ভিত্তি হিসেবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কখনও টেলিগ্রামের কোনও চ্যানেল ব্লক করার সুপারিশ করেননি। সংশ্লিষ্ট আধিকারিক এবং মন্ত্রকের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে বা টেলিগ্রাম কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, তারও কোনও উল্লেখ সরকারি নির্দেশে নেই।
আবেদনে টেলিগ্রাম জানিয়েছে, ভারতে তাদের প্রায় ১৫ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছেন। কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়বেন।
উল্লেখ্য, নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে টেলিগ্রাম অ্যাপের ব্যবহার সামনে আসার পর ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক ২২ জুন পর্যন্ত টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ৩০ জুন পর্যন্ত মেসেজ সম্পাদনার (এডিট) সুবিধা নিষ্ক্রিয় রাখারও নির্দেশ জারি করা হয়। মন্ত্রকের এই দুই নির্দেশকেই দিল্লি হাই কোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে টেলিগ্রাম।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য