
নয়াদিল্লি, ১৯ জুন (হি.স.) : ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার (কোরিয়া প্রজাতন্ত্র) মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন সভ্যতাগত সম্পর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দুই দেশের অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।
শুক্রবার সংসদ ভবনে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তামন্ত্রী তথা ‘কোরিয়া প্রজাতন্ত্র-ভারত সংসদীয় মৈত্রী গোষ্ঠী’-র সভাপতি ইউন হোজুংয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ওম বিড়লা বলেন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সমৃদ্ধ বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের জন-জনের যোগাযোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই সম্পর্ককে আরও গভীর করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।
ভারত দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এশিয়ার দুই প্রধান অর্থনীতি ও প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে উভয় দেশই গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী।
তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সবুজ শক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বৃহৎ বাজার এবং দক্ষ তরুণ কর্মশক্তির কারণে ভারত দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গন্তব্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিকাঠামো ও উৎপাদন শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ওম বিড়লা বলেন, ভারতের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার বাড়তে থাকা আগ্রহকে ভারত স্বাগত জানায়। এই ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়লে উভয় দেশই লাভবান হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় যোগ, আয়ুর্বেদ এবং ভারতীয় সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে লোকসভার অধ্যক্ষ বলেন, জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত মতবিনিময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে। সংসদীয় মৈত্রী গোষ্ঠীগুলি অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় কর্মকৌশল ভাগ করে নেওয়ার কার্যকর মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে ইউন হোজুং লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে আন্তরিক অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের সংসদের স্পিকার হিসেবে ওম বিড়লার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অটোমোবাইল শিল্প-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতে দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ইউন হোজুং বলেন, বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। পাশাপাশি, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি জানান, দুর্যোগ-সহনশীল পরিকাঠামোর জোট (সিডিআরআই)-এ যোগ দিতে আগ্রহী দক্ষিণ কোরিয়া।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য