
নয়াদিল্লি, ১৯ জুন (হি.স.) : খাদ্যপণ্যের মোড়ক ও বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্তিকর দাবি এবং লেবেলিং সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে একাধিক খাদ্য সংস্থাকে নোটিস পাঠিয়েছে ভারতীয় খাদ্য সুরক্ষা ও মান নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই)। খাদ্য সুরক্ষা ও মান আইন, ২০০৬-এর বিভিন্ন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছে জবাব তলব করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এফএসএসএআই-এর দাবি, অনেক সংস্থাই এমন ব্র্যান্ড নাম, পণ্যের বিবরণ ও স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত দাবি ব্যবহার করছে, যা গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করতে পারে। পাশাপাশি লেবেলিং বিধি লঙ্ঘন এবং ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেও একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
যেসব সংস্থা বা পণ্যকে নোটিস পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে প্লাক ম্যাঙ্গো ফ্রুট জুস, ন্যাচারাল পনির, স্যাফোলা টোটাল হার্ট, গৌর হেলদি ফুড সিলকেন টোফু, র্যামেন নুডলস এবং ফেরেরো ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের কিন্ডার জয়।
এফএসএসএআই জানিয়েছে, গ্রাহকদের কাছে সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য তুলে ধরা প্রতিটি খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থার দায়িত্ব। সেই কারণেই বিভ্রান্তিকর দাবি বা তথ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের আপত্তির মধ্যে অন্যতম প্লাক ম্যাঙ্গো ফ্রুট জুস। পণ্যের গায়ে ‘নো এডেড সুগার ’ দাবি করা হলেও উপাদানের তালিকায় ৫১ শতাংশ আমের শাঁসের পাশাপাশি ৪৯ শতাংশ আখের রসের উল্লেখ রয়েছে। এফএসএসএআই-এর মতে, এতে পণ্যে চিনির প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
একইভাবে ‘ন্যাচারাল পনির’ নামেও আপত্তি তুলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাদের বক্তব্য, পণ্যের নামে ‘ন্যাচারাল’ শব্দের ব্যবহার প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে সিলকেন টোফু-র মোড়কে ‘অ্যান্টি-ক্যানসার’, ‘১০০ শতাংশ ভেজ’ এবং ‘ভিটামিন সমৃদ্ধ’-এর মতো দাবি করা হয়েছে। এফএসএসএআই-এর বক্তব্য, ভিটামিনের পরিমাণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি ‘অ্যান্টি-ক্যানসার’ ধরনের রোগ নিরাময় বা প্রতিরোধ সংক্রান্ত দাবি আইন অনুযায়ী অনুমোদিত নয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য