রতলামে রণথম্ভোর এক্সপ্রেসের চাকার পাশ থেকে ধোঁয়া, আতঙ্কে ট্রেন থেকে নেমে পড়লেন যাত্রীরা
রতলাম, ১৮ জুন (হি.স.): মধ্যপ্রদেশের রতলাম জেলায় বৃহস্পতিবার লুনি-রিছা স্টেশনের কাছে ইন্দোর-যোধপুর রণথম্ভোর এক্সপ্রেসের একটি জেনারেল কোচের চাকার পাশ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও স্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায়। আগুন লাগার আশঙ্কায় মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীদের মধ্যে
রতলামে রণথম্ভোর এক্সপ্রেসের চাকার পাশ থেকে ধোঁয়া, আতঙ্কে ট্রেন থেকে নেমে পড়লেন যাত্রীরা


রতলাম, ১৮ জুন (হি.স.): মধ্যপ্রদেশের রতলাম জেলায় বৃহস্পতিবার লুনি-রিছা স্টেশনের কাছে ইন্দোর-যোধপুর রণথম্ভোর এক্সপ্রেসের একটি জেনারেল কোচের চাকার পাশ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া ও স্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায়। আগুন লাগার আশঙ্কায় মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে তড়িঘড়ি মালপত্র নিয়ে ট্রেন থেকে নেমে রেললাইনে চলে আসেন। পরে রেলকর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্দোর থেকে যোধপুরগামী রণথম্ভোর এক্সপ্রেস (১২৪৬৫) বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে রতলাম জেলার লুনি-রিছা স্টেশনের কাছে পৌঁছতেই ট্রেনের শেষ দিকের একটি জেনারেল কোচের চাকার পাশ থেকে স্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখা যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে লোকো পাইলট সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ব্রেক কষেন। ট্রেন থামার পর সংশ্লিষ্ট কোচের নিচ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আগুন লাগার গুজব ছড়িয়ে পড়তেই বহু যাত্রী দ্রুত কোচ থেকে নেমে রেললাইনের উপর আশ্রয় নেন। কিছুক্ষণের জন্য গোটা এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সময় পাশের সমান্তরাল লাইনে আরও একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিপুল সংখ্যক যাত্রী রেললাইনের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ট্রেনে আগুন লেগেছে—এমন আশঙ্কা থেকেই যাত্রীরা কোচ ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে রেলের প্রযুক্তিগত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রেনের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। প্রায় ২০ মিনিট ট্রেনটি দাঁড় করিয়ে রাখার পর নিরাপদ ঘোষণা করে সেটিকে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিক কী কারণে ধোঁয়া বেরিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, জরুরি ব্রেক প্রয়োগের ফলে চাকার সঙ্গে ঘর্ষণের কারণেই ধোঁয়া ও স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, রণথম্ভোর এক্সপ্রেস প্রতিদিন সকাল ৬টায় ইন্দোর থেকে ছেড়ে রাত প্রায় ১১টায় যোধপুর পৌঁছায়। এর আগে গত ১৭ মে রতলাম জেলার লুনি-রিছা ও বিক্রমগড় স্টেশনের মাঝামাঝি রাজধানী এক্সপ্রেসের (১২৪৩১) বি-১ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচে আগুন লেগেছিল। সেবারও সব যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কোচটি ট্রেন থেকে আলাদা করা হয়েছিল।

এছাড়া গত ১৪ জুন মধ্যপ্রদেশের মোরেনা জেলায় খাজুরাহো-উদয়পুর ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগুন লাগার গুজব ছড়িয়ে পড়লে বহু যাত্রী রেললাইনে নেমে পড়েন। সেই সময় পাশের লাইনে দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় চার যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande