নেপাল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অংশীদার: মার্কিন উপ-বিদেশ মন্ত্রী সারাহ রজার্স
কাঠমান্ডু, ২ জুন (হি.স.) : নেপালকে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে দেখে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের জনকূটনীতি বিষয়ক উপ-বিদেশ মন্ত্রী সারাহ বি. রজার্স। তিন দিনের নেপাল সফর শেষে কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তি
নেপাল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অংশীদার: মার্কিন উপ-বিদেশ মন্ত্রী সারাহ রজার্স


কাঠমান্ডু, ২ জুন (হি.স.) : নেপালকে যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে দেখে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের জনকূটনীতি বিষয়ক উপ-বিদেশ মন্ত্রী সারাহ বি. রজার্স। তিন দিনের নেপাল সফর শেষে কাঠমান্ডুতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি নেপালের প্রযুক্তি খাতের বিকাশ, এমসিসি প্রকল্প, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন।

সারাহ রজার্স জানান, নেপালের বিদেশ মন্ত্রী শিশির খানাল এবং তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ড. বিক্রম তিমিলসিনার সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, নেপালের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নেপালে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রজার্স বলেন, “নেপালের প্রযুক্তি খাত ভবিষ্যতে ‘সিলিকন ভ্যালি’র মতো সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আমরা চাই, এখানে এমন পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডেটা সেন্টারে আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে।”

স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেপালের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে। মার্কিন সংস্থাগুলি নেপালে কখন ও কীভাবে ব্যবসা করবে, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং নেপাল সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে নেপালে আরও বেশি ইন্টারনেট সংযোগ বিস্তারের পক্ষে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সারাহ রজার্স ৫৫ কোটি ডলারের মিলেনিয়াম চ্যালেঞ্জ কর্পোরেশন (এমসিসি) প্রকল্পকে নেপালের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাস্তবায়ন পর্যায়ে থাকা এই প্রকল্পকে নেপাল সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তাঁর বিশ্বাস। তিনি আরও জানান, এটি শুধুমাত্র মার্কিন সহায়তা প্রকল্প নয়; কারণ নেপালও এতে প্রায় ১৯ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার বিনিয়োগ করছে।

মার্কিন বৈদেশিক সহায়তা কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রজার্স বলেন, ইউএসএআইডি আর স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে কাজ করছে না। এখন এর কার্যক্রম মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীন নতুন বৈদেশিক সহায়তা দফতরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল সাহায্য নয়, বরং বাণিজ্য ও অংশীদারিত্বভিত্তিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা সমমর্যাদার সহযোগিতা চাই।”

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সারাহ রজার্স স্পষ্টভাবে সেন্সরশিপের বিরোধিতা করেন। নেপাল সরকারের ডিজিটাল পরিসর নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নাগরিকদের কী ভাবতে হবে বা কী দেখতে হবে তা নির্ধারণ করতে পারে না। তাঁর মতে, মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে চায়, আর সেই স্বাধীনতা সীমিত হলে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে প্রতারণা, শিশু যৌন নির্যাতন বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু ভিন্নমত বা অপছন্দের মতাদর্শ দমনের নামে সেন্সরশিপ গ্রহণযোগ্য নয়। ভুল তথ্য (মিসইনফরমেশন) ও ডিপফেক মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেপালে যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে রজার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য নেপাল-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা। অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত এবং গণতান্ত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণেই তাদের আগ্রহ, কোনও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হওয়া নয়।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande