
প্যারিস, ১ জুন (হি.স.): উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিস সাঁ-জাঁ (পিএসজি)-র ঐতিহাসিক জয়কে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক হিংসা ও গণ-অশান্তির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্যুরো অব হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড জাস্টিস (বিএইচআরজে)। একই সঙ্গে এই সংস্থা দেশের জনশৃঙ্খলা রক্ষার কৌশলের আমূল সংস্কার এবং নিরাপত্তা নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতার আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাতভর চলা এই অশান্তির জেরে দেশজুড়ে ৭৮০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই হিংসার ঘটনা ৭১টি পৌরসভা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ৫৭ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং ২১৯ জন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। একজন নিহত হওয়ার খবরও কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার জারি করা এক বিবৃতিতে বিএইচআরজে-র প্রেসিডেন্ট দীপন মিত্র এই ঘটনাগুলোকে ফুটবল সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া বলে মানতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এটি সমর্থকদের আচরণ নয়; এটি জনশৃঙ্খলার ওপর একটি সমন্বিত এবং পূর্বপরিকল্পিত হামলা। বিগতদিনে উদযাপনের সময়ও আমরা একই ধরনের হিংসার রূপ দেখেছি। আমরা যা দেখছি তা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি পুনরাবৃত্তি, যা ফরাসি প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এক মারাত্মক চ্যালেঞ্জ। দীপন মিত্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফ্রান্সে বড় কোনও ক্রীড়া ইভেন্টে জয় এখন ক্রমেই ব্যাপক ভাঙচুর, সম্পত্তি নষ্ট এবং আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার সমার্থক হয়ে উঠছে। তিনি আরও বলেন, একটি খেলায় জয় বারবার দেশব্যাপী দাঙ্গার সূত্রপাত করছে, এই বিষয়টি নীতিনির্ধারক ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। এখনই যদি কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না হয়, তবে ভবিষ্যতে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য অনেক বেশি দিতে হতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সাম্প্রতিক অশান্তি প্রমাণ করে যে হাই-প্রোফাইল ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর সঙ্গে জড়িত বড় ধরণের জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, বিএইচআরজে ফরাসি সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে ভিড় ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি অবিলম্বে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে, যাতে অশান্তি বাড়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং দাঙ্গা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। বিএইচআরজে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ উদযাপন জনসাধারণের আবেগের একটি বহিঃপ্রকাশ হতে পারে, তবে কোনও অবস্থাতেই হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা বরদাস্ত করা যায় না। পাশাপাশি, সংস্থাটি ফরাসি কর্তৃপক্ষকে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ব্যর্থতার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করতে এবং ভবিষ্যতে বড় ইভেন্টগুলোর সময় এই ধরনের অশান্তি ঠেকাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, প্যারিস সাঁ-জাঁর ঐতিহাসিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় ফ্রান্সে উদযাপনের জোয়ার এনে দিয়েছিল, কিন্তু বেশ কয়েকটি শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং হিংসার ঘটনার জেরে সেই আনন্দ উৎসব ম্লান হয়ে যায়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ