
বেঙ্গালুরু, ১৮ জুলাই (হি.স.): প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও জনতা দল (সেক্যুলার)-এর অভিভাবক এইচ.ডি. দেবেগৌড়ার স্ত্রী চেন্নাম্মা (৮৫) শনিবার বেঙ্গালুরুর মণিপাল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৫ জুলাই থেকে হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দেবেগৌড়ার জামাতা ও সাংসদ ডা. সি.এন. মঞ্জুনাথ জানিয়েছেন, সোমবার হাসান জেলার হোলেনরসিপুরায় চেন্নাম্মার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
চেন্নাম্মার শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পরিবারের সদস্য, সমর্থক এবং জনতা দল (সেক্যুলার)-এর কর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করছেন। বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনায় হাসপাতাল চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু শহরের পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিংও হাসপাতালে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।
হাসান জেলার মুথিগে হিরেহল্লি গ্রামে চেন্নাম্মার জন্ম। ১৯৫৪ সালের ২৫ মে এইচ.ডি. দেবেগৌড়ার সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। তাঁদের পরিবারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ.ডি. কুমারস্বামী-সহ চার পুত্র ও দুই কন্যা রয়েছেন। দেবেগৌড়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব সামলে তিনি সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন। সরল জীবনযাপন, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং অতিথিপরায়ণতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
চেন্নাম্মার প্রয়াণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর নাতি নিখিল কুমারস্বামী সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ আবেগঘন বার্তায় লিখেছেন, তাঁর দাদি ছিলেন পরিবারের মূল ভিত্তি। তাঁর স্নেহ, সরলতা ও আন্তরিকতা পরিবারকে সবসময় অনুপ্রাণিত করবে এবং তাঁর মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি।
কর্নাটক বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আর. অশোক গভীর শোক প্রকাশ করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ.ডি. দেবেগৌড়া, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এইচ.ডি. কুমারস্বামী এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও শোক প্রকাশ করে বলেন, জনতা পরিবারের সময় থেকেই দেবেগৌড়া পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। চেন্নাম্মা জীবনের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে করেছেন এবং একজন আদর্শ গৃহিণী ও জীবনসঙ্গিনী হিসেবে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য