‘আরএসএস কখনও সূর্যাস্ত দেখে না, সূর্যোদয়ের সঙ্গেই তার পথচলা’, গুয়াহাটিতে বলেছেন অধ্যাপক রাকেশ সিনহা
গুয়াহাটি, ১৮ জুলাই (হি.স.) : ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কখনও সূর্যাস্ত দেখে না। সংঘের পথচলা সূর্যোদয়ের সঙ্গে চলতে থাকে। একইভাবে সংঘ কখনও বার্ধক্যে উপনীত হয় না, চিরতরুণ সংগঠন হিসেবেই সমাজে কাজ করে চলেছে...’ বক্তা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ,
বক্তব্য পেশ করছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য অধ্যাপক রাকেশ সিনহা


গুয়াহাটি, ১৮ জুলাই (হি.স.) : ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) কখনও সূর্যাস্ত দেখে না। সংঘের পথচলা সূর্যোদয়ের সঙ্গে চলতে থাকে। একইভাবে সংঘ কখনও বার্ধক্যে উপনীত হয় না, চিরতরুণ সংগঠন হিসেবেই সমাজে কাজ করে চলেছে...’ বক্তা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও লেখক অধ্যাপক রাকেশ সিনহা।

আজ শনিবার গুয়াহাটির পল্টনবাজারে অবস্থিত কেশব ধাম-এর শংকরদেব সভাগৃহে ‘পূর্বোত্তর ভারত অধ্যয়ন সমূহ’-এর উদ্যোগে এবং ‘বৈচারিক প্রবোধন কর্মশালা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত এক বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করছিলেন অধ্যাপক রাকেশ সিনহা। অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল ‘পরম পূজনীয় ডা. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার - সংঘকার্যের শতবর্ষের অনুপ্রেরণা’।

‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং আরএসএস’ এবং ‘ডা. কেবি হেডগেওয়ার’ বইয়ের লেখক অধ্যাপক রাকেশ সিনহা তাঁর বক্তব্যে সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের জীবন, দর্শন ও সাংগঠনিক কর্মপদ্ধতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডা. হেডগেওয়ারের সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গিই আরএসএস-কে একটি স্বতন্ত্র ও অনন্য সামাজিক সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি বলেন, ডা. হেডগেওয়ার ব্যক্তি-পূজার বিরোধী ছিলেন, সংঘে কখনও ব্যক্তি-ভিত্তিক বিভাজনের স্থান নেই। সংঘ সর্বদা সমতা, শৃঙ্খলা ও সমাজকল্যাণের আদর্শে বিশ্বাস করে। তাঁর প্রতিটি সাংগঠনিক উদ্যোগ মানবকল্যাণকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল।

অধ্যাপক সিনহা আরও বলেন, যতদিন হিন্দু সমাজ জাতি, ভাষা ও গোষ্ঠীর ভিত্তিতে বিভক্ত থাকবে, ততদিন একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র অন্য ধর্মের আগ্রাসনের ভয় থেকে সমাজের ঐক্য প্রতিষ্ঠা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। জাতপাত, অস্পৃশ্যতা, ভাষা ও আঞ্চলিকতার ঊর্ধ্বে ওঠে ‘আমরা সকলেই ভারতমাতার সন্তান’, এই চেতনা নিয়ে সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, শাসক এবং সংঘ দুটি পৃথক সত্তা। সংঘের আদর্শ ও চিন্তাধারা কখনও শাসকের নির্দেশ বা ইচ্ছার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না।

সংঘের উত্তর অসম প্রান্তের প্রচারপ্রমুখ কিশোর শিবমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বক্তৃতা সভায় শতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপিকা কল্পনা বরা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande