
নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (হি.স.): যন্তর-মন্তরে সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে চলা আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও এলজেপি (রামবিলাস)-এর জাতীয় সভাপতি চিরাগ পাসওয়ান বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তার সঙ্গে তিনি একমত। তবে অনশন বা এই ধরনের আন্দোলনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। একইসঙ্গে বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক জমি হারিয়ে কয়েকটি বিরোধী দল সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলনের মুখ হিসেবে ব্যবহার করছে।
চিরাগ পাসওয়ান বলেন, “সেখানে উপস্থিত ছাত্র সংগঠনগুলিকে দেখুন। উপস্থিতদের মধ্যে কতজন প্রকৃত ছাত্র, তা-ই আমি জানি না। অধিকাংশকেই ছাত্র বয়সের অনেক ঊর্ধ্বে বলে মনে হচ্ছে। স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী খুব কমই দেখা যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের উপস্থিতি স্পষ্ট।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনওভাবেই আপস করা উচিত নয়। কিন্তু অনশন বা এ ধরনের আন্দোলন কি সেই পরিবর্তন আনতে পারবে? তার বদলে প্রস্তাব দিন, আলোচনা করুন, কথোপকথনের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজুন। অযথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত নয়।”
সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রসঙ্গে চিরাগ পাসওয়ান বলেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক যে রাজনৈতিক জমি হারিয়ে কয়েকটি বিরোধী দল সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলনের মুখ হিসেবে ব্যবহার করছে। একজন মানুষ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, আর সকলেই তাঁর অবনতিশীল শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরাও উদ্বিগ্ন, আদালতও উদ্বিগ্ন। দিল্লি পুলিশ যদি হস্তক্ষেপ করে থাকে, তা এই কারণে যে সোনম ওয়াংচুকের মতো একজন ব্যক্তিত্বকে দেশ হারাতে চায় না।”
তিনি আরও বলেন, “কোনও সরকারের সঙ্গে মতভেদ থাকলে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো যায়। প্রতিবাদ করা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মানুষ অবশ্যই নিজের মত প্রকাশ করবেন। কিন্তু একজন ব্যক্তিকে গোটা রাজনৈতিক আন্দোলনের মুখ করে তোলা ঠিক নয়।”
প্রসঙ্গত, নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক টানা ২১ দিন ধরে যন্তর-মন্তরে অনশন চালিয়ে আসছিলেন। শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য