(আপডেট) সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, চিকিৎসা চলছে: সফদরজং হাসপাতাল
নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (হি.স.): টানা ২১ দিন অনশনের পর সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুককে শনিবার সকালে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন অনশনের কারণে তিনি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং শ
(আপডেট)সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, চিকিৎসা চলছে: সফদরজং হাসপাতাল


নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (হি.স.): টানা ২১ দিন অনশনের পর সমাজকর্মী ও পরিবেশ আন্দোলনের মুখ সোনম ওয়াংচুককে শনিবার সকালে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন অনশনের কারণে তিনি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং শরীরে মৃদু জলশূন্যতার লক্ষণ রয়েছে। তবে তাঁর সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক সূচক (ভাইটাল প্যারামিটার) আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।

সফদরজং হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডা. চারু বম্বা জানান, শনিবার সকাল প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটে ওয়াংচুককে হাসপাতালে আনা হয়। প্রথমে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করেন। পরে তাঁকে মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ সচেতন, সজাগ এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ডা. বম্বার কথায়, দীর্ঘ অনশনের জেরে শরীরে সামান্য জলশূন্যতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাবে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যেও কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর শারীরিক অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থাকে স্থিতিশীল বলেই জানিয়েছে হাসপাতাল।

এদিকে, সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করার পর তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবারের সম্মতি ছাড়া তাঁর স্বামীর উপর কোনও চিকিৎসা বা চিকিৎসাজনিত হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা ওয়াংচুকের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের এবং পরিবারের অনুমতি ছাড়া কোনও ওষুধ, ইনজেকশন বা অন্য কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিত নয়। ওয়াংচুক যেহেতু অনশন চালিয়ে যেতে চান, তাই তাঁর সম্মতি ছাড়া মুখে কোনও খাবার বা তরলও দেওয়া উচিত নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ২০ জুলাই পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।

তবে শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ তাঁকে অনশন মঞ্চ থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়।

শনিবার দিল্লির ডিসিপি শচীন শর্মা জানান, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই তাঁকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারী সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি'-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ অভিযোগ করেন, পুলিশ সকালেই যন্তর মন্তরে পৌঁছে জোর করে ওয়াংচুককে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং আন্দোলনকারীদেরও সেখান থেকে তুলে দেয়। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande