
নয়াদিল্লি, ১৯ জুলাই (হি.স.): পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আর্জিতে অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। তবে কেন্দ্র-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে তিন দিনের মধ্যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট বা জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার নোটিস জারি করে আদালত জানিয়েছে, আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশের প্রয়োজন নেই।
জাস্টিস মিনি পুষ্করণার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, চিকিৎসকেরা যে চিকিৎসা বা মেডিক্যাল ইন্টারভেনশন প্রয়োজনীয় বলে মনে করবেন, তাতে সোনম ওয়াংচুককে সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা-প্রোটোকল মেনেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক দল নেবে।
শুনানিতে ওয়াংচুকের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, পরিবার ইতিমধ্যেই মেদান্তা হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং সেখানে ওয়াংচুককে স্থানান্তর করতে চায়। তিনি দাবি করেন, ওয়াংচুক অতীতেও দীর্ঘ অনশন করেছেন এবং বর্তমানে তাঁর সম্মতি ছাড়াই সফদরজং হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা আদালতে জানান, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এবং পূর্ববর্তী ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ মেনেই তাঁকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও চিকিৎসক দলের স্বাক্ষরিত চিকিৎসা-নথিও আদালতে পেশ করেন। আদালত নথিভুক্ত করেছে যে, ওয়াংচুক ১৭-১৮ দিন ধরে অনশনে ছিলেন এবং তাঁর রক্তে শর্করা, সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে গিয়েছিল। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, পটাশিয়ামের মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে কম থাকলেও ওয়াংচুক সম্মতি না দেওয়ায় তাঁকে শিরায় তরল দেওয়া হয়নি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রেক্ষিতে এবং আগের আদালতের নির্দেশ অনুসারেই তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফলে সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারী বলা যায় না।
হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, সফদরজং হাসপাতালের চিকিৎসকেরা ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তাঁর সম্মতি নিয়েই শুধুমাত্র মুখে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আদালতের সামনে এমন কোনও প্রমাণ আসেনি, যাতে বলা যায় তাঁর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করেছে, ওয়াংচুককে আটক করে রাখা হয়নি। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এবং তিনি স্বেচ্ছায় হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় সরকার তাঁকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করার অধিকার রাখে।
আদালত আরও মন্তব্য করেছে, প্রত্যেকটি জীবন মূল্যবান। আদালত নথিভুক্ত করেছে যে, ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো ও তাঁর ভাইকে ২৪ ঘণ্টাই তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের জন্য পৃথক কক্ষেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শুনানির সময় এএসজি চেতন শর্মা প্রশ্ন তোলেন, যদি আদালতের নির্দেশে লেখা থাকে যদি তিনি চান, আর ওয়াংচুক যদি জলও পান করতে না চান, তাহলে পরিস্থিতি কী হবে? এর পরই আদালত স্পষ্ট করে জানায়, চিকিৎসা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চিকিৎসকরাই প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা-প্রোটোকল অনুযায়ী নেবেন।
এছাড়া আদালত এএসজি চেতন শর্মার বক্তব্যও নথিভুক্ত করেছে যে, সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়মিত তাঁর পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য