
।। রাজীব দে ।।
ঢাকা, ১৯ জুলাই (হি.স.) : ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি), ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকার উদ্যোগে ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ বর্ষাকালীন সংগীতানুষ্ঠান ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’। বর্ষা ঋতুর সৌন্দর্য, অনুভূতি এবং ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গতকাল শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত সংগীতানুষ্ঠানে ভারতীয় ও বাঙালি সাহিত্য-সংগীতের অন্যতম অনুষঙ্গ ‘শ্রাবণ’-কে কেন্দ্র করে সাজানো ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’য় বর্ষাকালের আবহ, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং দুই দেশের যৌথ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের চিরন্তন আবেদন মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও সংগীতগুরু গুরু অনিল কুমার সাহা এবং তাঁর শিষ্য আলোক কুমার সেন। তাঁদের শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশনার পর মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. চঞ্চল খান।
গুরু অনিল কুমার সাহা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে আলোক কুমার সেন সহ বহু গুণী শিল্পী গড়ে উঠেছেন। শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তিনি সংগীতাঙ্গনে বিশেষভাবে সমাদৃত।
আলোক কুমার সেন হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় ও উপ-শাস্ত্রীয় (সেমি-ক্লাসিক্যাল) সংগীতের একজন সুপরিচিত কণ্ঠশিল্পী। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মঞ্চে তিনি সংগীত পরিবেশন করেছেন। গজল, রবীন্দ্রসংগীত এবং আধুনিক বাংলা গানের সুরেলা পরিবেশনার জন্য তিনি শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
অন্যদিকে, ড. চঞ্চল খান বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। রবিঠাকুরের গানের গভীর ব্যাখ্যা ও হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনার জন্য তিনি দেশে-বিদেশে সমাদৃত। রবীন্দ্রসংগীতের সংরক্ষণ ও প্রসারে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
অনুষ্ঠানে শিল্পীরা বর্ষাকে কেন্দ্র করে বাংলা ও হিন্দি ভাষার একাধিক নির্বাচিত গান পরিবেশন করেছেন। সুরের মূর্ছনায় মুখর গতকালের সন্ধ্যা শুধু বর্ষার সৌন্দর্যকেই উদযাপন করেনি, ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক বন্ধনকেও আরও সুদৃঢ় করেছে।
ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাংস্কৃতিক কূটনীতির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং বোঝাপড়া আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস