
ত্রাণ ও উদ্ধারকাৰ্য তদারকি চার মন্ত্রীর, নিবিড় নিরীক্ষণে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব
গুয়াহাটি, ২০ জুলাই (হি.স.) : উজান অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উদ্ধারকাজে নেমেছে সেনাবাহিনী, প্রস্তুত বায়ুসেনা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। উদ্ধার ও ত্রাণকার্য জোরদার করতে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নির্দেশে চার মন্ত্রী অজন্তা নেওগ, বিমল বরা, কেশব মহন্ত এবং সুশান্ত বড়গোহাঁই বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে গিয়েছেন।
টানা চার দিনের প্রবল বর্ষণে অসমের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় আজ সোমবার উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নেমেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। প্রয়োজনে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে ভারতীয় বায়ুসেনা এবং এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ (সোমবার) অসমের অধিকাংশ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গোলাঘাট, শিবসাগর, চড়াইদেও, ডিব্রুগড় এবং তিনসুকিয়া জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে বুধবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অন্যদিকে শিবসাগর, চড়াইদেও, যোরহাট, গোলাঘাট, চিরাং, ডিব্রুগড় এবং তিনসুকিয়া জেলায় নিম্ন থেকে মাঝারি মাত্রার বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বনাথ, কাছাড়, চড়াইদেও, ধেমাজি, ডিব্রুগড়, গোলাঘাট, যোরহাট, কার্বি আংলং, লখিমপুর, শিবসাগর, তিনসুকিয়া এবং ওদালগুড়ি, এই ১২টি জেলার ৫৮০টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১০,৩৬২ হেক্টরের বেশি কৃষিজমি এখনও বন্যার জলের নীচে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চড়াইদেও, শিবসাগর, যোরহাট এবং গোলাঘাট জেলা। বিভিন্ন নদীর জল উপচে পড়ায় একাধিক বাঁধ ভেঙে গেছে, জাতীয় ও রাজ্য সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, শিবসাগর, চড়াইদেও এবং যোরহাট জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতির দরুন রাজ্য সরকার সেনাবাহিনী ও ভারতীয় বায়ুসেনার সহায়তা চেয়েছে। তিনি রাজ্যের চার মন্ত্রীকে দ্রুত বন্যাকবলিত এলাকায় পৌঁছে ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধারকাজ এবং সমন্বয়ের দায়িত্ব তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, গতকালও মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁর নিজের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছিলেন, শিবসাগর, চড়াইদেও এবং যোরহাট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় রাজ্য সরকার ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ভারতীয় বায়ুসেনাকে প্রয়োজনে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য স্ট্যান্ডবাই থাকতে অনুরোধ করেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার বন্যা পরিস্থিতির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে এবং মানুষের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী অজন্তা নেওগ, বিমল বরা, কেশব মহন্ত এবং সুশান্ত বড়গোহাঁইকে অবিলম্বে বন্যাকবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁদের ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ তদারকি করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং কোনও পরিবার যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড. শর্মা বলেছেন, ‘আমাদের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি এবং মানুষের জীবন রক্ষা ও সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস