আপডেট...ত্রিপুরার ডিজিপি অনুরাগ ধনকরের রহস্যমৃত্যু, পুলিশ সদর দফতরে উদ্ধার দেহ, আত্মহত্যার সন্দেহে চাঞ্চল্য
আগরতলা, ২০ জুলাই (হি.স.): ত্রিপুরার পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি) আইএএস অনুরাগ ধনকরের মৃতদেহ আজ সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর দফতরে উদ্ধারের ঘটনায় গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হলেও, মৃত্যুর প্র
ত্রিপুরার ডিজিপি অনুরাগ ধনকর আইপিএস (১৯ জুলাই এক অনুষ্ঠানের ফটো)


আগরতলা, ২০ জুলাই (হি.স.): ত্রিপুরার পুলিশ মহানির্দেশক (ডিজিপি) আইএএস অনুরাগ ধনকরের মৃতদেহ আজ সোমবার আগরতলায় পুলিশ সদর দফতরে উদ্ধারের ঘটনায় গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হলেও, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে পুলিশের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

অনুরাগ ধনকর ২০২৫ সালের ১৭ মে ত্রিপুরার পুলিশ মহানির্দেশকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে তিনি ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মহানির্দেশক (আইন ও শৃঙ্খলা)-এর দায়িত্বের পাশাপাশি পুলিশ মহানির্দেশক (গোয়েন্দা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং পেশাগত দক্ষতার জন্য তিনি পুলিশ মহলে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন।

ত্রিপুরা পুলিশের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুরাগ ধনকর ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসের (আইপিএস) ১৯৯৪ ব্যাচের আধিকারিক। শিক্ষাজীবনে তিনি মহীশূরের সেন্ট্রাল ফুড টেকনোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিএফটিআরআই) থেকে ফুড টেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুলিশ ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স এবং হায়দরাবাদের নালসার ইউনিভার্সিটি অব ল থেকে সাইবার ক্রাইমসে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা লাভ করেন তিনি।

১৯৯৫ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ত্রিপুরার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। লংতরাইভ্যালির এসডিপিও, অবিভক্ত পশ্চিম ও দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার, স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপার এবং এআইজিপি হিসেবে তিনি সফলভাবে কাজ করেন।

২০০৩-০৪ সালে তিনি কসোভোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে থেকে সিবিআই-তে এসপি ও ডিআইজি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ত্রিপুরায় ফিরে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আইজিপি (আইন ও শৃঙ্খলা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীকালে ২০১৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পুনরায় কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে গিয়ে তিনি সিবিআই-এর যুগ্ম পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালক, ব্যুরো অব পুলিশ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিপিআরঅ্যান্ডডি)-এর গবেষণা ও সংশোধনমূলক প্রশাসন বিভাগের আইজি এবং সিআইএসএফ-এর আইজি (পার্সোনেল) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান।

এছাড়া, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার তদন্তে গঠিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্র্ মন্ত্রকের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

একজন দক্ষ, সৎ ও পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে অনুরাগ ধনকরের পরিচিতি ছিল সর্বমহলে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক মহল, পুলিশ বাহিনী এবং বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তবে এই ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ সদর দফতরের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, নাকি এটি নিছক আত্মহত্যা, এ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande