(আপডেট-৪) ডিজিপি-র মৃত্যু : তদন্তে আপস নয়, বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ বিজেপি প্রদেশ সভাপতির
আগরতলা, ২০ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি)-র অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আন
বিজেপি প্রদেশ সভাপতি


আগরতলা, ২০ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরা পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি)-র অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। তিনি বলেন, এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হবে এবং তদন্তের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না। একই সঙ্গে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতার প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীরা মৃত্যুর ঘটনাকেও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

সোমবার রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত জিবিপি হাসপাতালে পৌঁছেন অভিষেক দেবরায়। সেখানে তিনি প্রয়াত পুলিশ আধিকারিকের পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান। পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গেও ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করেন।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দেবরায় বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তিনি অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে রাজ্য এক দক্ষ ও অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিককে হারাল।

তিনি আরও বলেন, রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। তদন্তের স্বার্থে কোনওরকম প্রভাব বা আপস বরদাস্ত করা হবে না। তদন্তকারী সংস্থা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত সত্য রাজ্যবাসীর সামনে তুলে ধরবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতার প্রতিক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, জন্ম-মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়েও বিরোধীরা রাজনীতি করতে পিছপা হয় না। সম্প্রতি দক্ষিণ জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে তাঁরা যে ধরনের ভাষায় কথা বলেছেন, তা গোটা রাজ্য দেখেছে। পুলিশের ওপর কারা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে, সেটাও মানুষের অজানা নয়।

অভিষেক দেবরায় আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ এমন একটি সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন, তাহলে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি একটি অসুস্থ রাজনৈতিক মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

অন্যদিকে, ডিজিপি-র অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) ডা. মানিক সাহা নিজে আগরতলায় পুলিশ সদর দফতরে পৌঁছে পরিস্থিতির খোঁজ নেন। তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত ডিজিপি-র মৃতদেহ জিবিপি হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরে হাসপাতালেও গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত শীর্ষ আধিকারিকের এই আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সেই তদন্তের দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande