পশ্চিমবঙ্গে ১ সেপ্টেম্বর থেকে জনসমক্ষে থুতু ফেলা, প্রস্রাব করা ও নোংরা ছড়ানোর ওপর বসছে জরিমানা
কলকাতা, ২৪ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ সরকার শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও দায়িত্বশীল করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে। নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শুক্রবার বিধানসভায় বিভাগীয় বাজ
অগ্নিমিত্রা পাল


কলকাতা, ২৪ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ সরকার শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও দায়িত্বশীল করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে। নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শুক্রবার বিধানসভায় বিভাগীয় বাজেটের আলোচনার উত্তরে বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ্য স্থানে থুতু ফেলা, খোলা জায়গায় প্রস্রাব করা এবং নোংরা-আবর্জনা ছড়ানোর ওপর জরিমানা ধার্য করা হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যজুড়ে 'স্বচ্ছ' অ্যাপ চালু করে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা তাঁদের এলাকায় রাস্তার পাশে বা অন্যান্য সাধারণ জায়গায় জমে থাকা আবর্জনার ছবি তুলে আপলোড করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পৌরসংস্থা বা পুরসভাকে সেই এলাকা পরিষ্কার করতে হবে।

অগ্নিমিত্রা পল বলেন, রাজ্য সরকার শহরাঞ্চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার অভিমুখে কাজ করছে। এর অধীনে প্রতিটি শহরের পরিবারকে কিউআর কোড প্রদান করা হবে, অন্যদিকে জঞ্জাল সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত সমস্ত গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো হবে। এর ফলে জঞ্জাল সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়াটির ওপর রিয়েল-টাইমে নজরদারি চালানো যাবে এবং পরিষেবার মান উন্নত হবে।

মন্ত্রী সদনে জানান, শহরাঞ্চলে বছরের পর বছর জমে থাকা বিপুল পরিমাণ জঞ্জালের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে অপসারণের লক্ষ্য ২০২৭ সালের ৩১ মে-র মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শহরাঞ্চলের জমির পুনর্ব্যবহার সম্ভব হবে, দুর্গন্ধ ও দূষণ কমবে এবং ভূগর্ভস্থ জলকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

অগ্নিমিত্রা পাল জানান, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জোর দিতে মন্দির ও বাজার থেকে সংগৃহীত ফেলে দেওয়া ফুল দিয়ে ধূপকাঠি এবং আবীর তৈরি করা হবে। এছাড়া পুকুর বা জলাশয় থেকে সংগৃহীত ৫০ শতাংশ কচুরিপানা ব্যবহার করা হবে হস্তশিল্পের নানা সামগ্রী তৈরিতে।

তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্যের কার্যকর অপসারণের জন্য বিভিন্ন স্থানে বোতল ক্রাশার মেশিন বসানো হবে। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল জমা দিলে নাগরিকদের বিনামূল্যে বিশেষ ব্যাগ দেওয়া হবে। সংগৃহীত সেই প্লাস্টিক বস্ত্র শিল্প ও রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার প্রতিটি বাড়ির ছাদে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করার দিকেও এগোচ্ছে। এই জল শৌচাগারে, কাপড় কাচতে এবং ঘরের অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে।

তিনি আরও জানান, নাগরিকদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হবে, যাতে অনলাইনে জমা পড়া অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমাধান করা যায়।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande