
ঝাড়গ্রাম, ২৪ জুলাই (হি. স.): বিজেপির বুথ সভাপতির উপর হামলা এবং তাঁর বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী ও পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের পৃথক মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী বীরবাহা হাঁসদার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার বিপ্লব গোস্বামীকে গ্রেফতার করল লালগড় থানার পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নেপুরা গ্রামে ফেরার সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গ্রামের প্রবেশপথ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন বিপ্লব গোস্বামী। আত্মগোপনে থাকার সময় ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় তিনি ছিলেন বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে লালগড় থানার রনগুয়া গ্রামে সাধারণ মানুষের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র আবেদনপত্র পূরণের কাজ করছিলেন বিজেপির বুথ সভাপতি তাপস শর্মা। অভিযোগ, সেই সময় বিপ্লব গোস্বামী তাঁর কয়েকজন অনুগামীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছে তাপস শর্মার উপর হামলা চালান। লাঠি, লোহার রড, ইট এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর জখম হন তাপস শর্মা। প্রথমে তাঁকে লালগড় গ্রামীণ হাসপাতালে এবং পরে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর তাপস শর্মার ভাই মানস শর্মার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিপ্লব গোস্বামী-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মারধর এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত বিপ্লব গোস্বামী এতদিন পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন।
তদন্ত চলাকালীন নেপুরায় বিপ্লব গোস্বামীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী এবং পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের শাড়ি, কম্বল, লুঙ্গি, ত্রাণের বাসনপত্র, ১৫০টি ত্রিপল, ১৪০টি সৌর পথবাতি এবং ৩৫ প্যাকেট লাইট চেন। সরকারি সামগ্রী বেআইনিভাবে মজুত রাখার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের দাবি, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার ঘটনায় আরও কারও জড়িত থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া সরকারি ত্রাণসামগ্রী এবং পঞ্চায়েতের সরঞ্জাম কীভাবে তাঁর বাড়িতে পৌঁছল, সেই বিষয়েও তদন্ত করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো