
কলকাতা, ২৪ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ সরকার দরিদ্রদের জন্য পরিচালিত ‘মা আহার’ প্রকল্পকে আরও সুবিধাজনক করে তুলতে এবং খাবারের অপচয় রোধে দুটি নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে। নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শুক্রবার বিধানসভায় বিভাগীয় বাজেটের আলোচনার সময় বলেন, শীঘ্রই ‘মা আহার’ কেন্দ্রগুলিতে উপভোক্তারা রেস্তোরাঁর আদলে বসে খাবার খাওয়ার সুবিধা পাবেন। এর জন্য মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনও মূল্য নেওয়া হবে না।
মন্ত্রী জানান, রাজ্যে বর্তমানে ৩৯০টি ‘মা আহার’ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে নামমাত্র মূল্যে খাবার সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, সরকার এই কেন্দ্রগুলির পরিষেবায় ক্রমাগত উন্নতি করেছে এবং এখন ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকার মধ্যে মাছ-ভাত সহ অন্যান্য খাবারও পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি সদনে জানান, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের আশেপাশে প্রায় ১০০টি ‘মা আহার’ কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ খাবার খান। এর মধ্যে রোগীদের আত্মীয়স্বজন, পথচারী এবং অন্যান্য দুস্থ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর উপভোক্তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বা খাবার প্যাক করে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আরামে বসে খাওয়ার সুবিধা পাবেন।
হোটেল ও অনুষ্ঠানের বেঁচে যাওয়া খাবার পৌঁছাবে দুস্থদের কাছে
মন্ত্রী খাবারের অপচয় রুখতে সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথাও জানান। তিনি বলেন, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিবাহ সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া ভালো মানের খাবার আর ফেলে দেওয়া হবে না। পুরসভা বা পৌরসংস্থাগুলি এই খাবার সংগ্রহ করে কোল্ড চেইন ব্যবস্থার অধীনে তা সুরক্ষিত রাখবে।
তিনি জানান, পরদিন ফুড সেফটি অফিসাররা সেই খাবারের গুণমান পরীক্ষা করে দেখবেন। খাবার যদি নির্দিষ্ট মানে উত্তীর্ণ হয়, তবে তা মন্দিরের আশেপাশে এবং অন্যান্য দুস্থ মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
অগ্নিমিত্রা পল বলেন, এই পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে চালানোর জন্য আলাদাভাবে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে খাবার নিরাপদ থাকে এবং তার গুণমান বজায় থাকে। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য হলো খাবারের অপচয় বন্ধ করার পাশাপাশি দুস্থ মানুষদের কাছে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছে দেওয়া। দুটি পরিকল্পনাই পর্যায়ক্রমে রাজ্যজুড়ে চালু করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি