পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ ক্যাগ রিপোর্ট : রাজস্ব ও রাজকোষ ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ
কলকাতা, ২৭ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর পেশ করা ২৮টি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ক্যাগ)-র রিপোর্টের একটিতে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তুলে ধরা হ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ ক্যাগ রিপোর্ট : রাজস্ব ও রাজকোষ ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ


কলকাতা, ২৭ জুলাই (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর পেশ করা ২৮টি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ক্যাগ)-র রিপোর্টের একটিতে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই অর্থবর্ষে রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৩৯,৭২৭ কোটি টাকা, যা রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ২.১৯ শতাংশ।

ক্যাগ রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজকোষ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬১,৯২৪ কোটি টাকা । রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রতি বছর রাজ্য লাগাতার রাজস্ব ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছে। পর্যালোচনা সময়কালে মোট রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ২,৫৩,৪২৭ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্ব প্রাপ্তির ১১৮.৫৯ শতাংশ। বিগত পাঁচ বছরে ব্যয়ের একটি বড় অংশ চলে গিয়েছে বেতন, পেনশন এবং ঋণের সুদের বাবদ। এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে ১৯,৪৪৪ কোটি টাকার ভর্তুকি (সাবসিডি) যুক্ত হওয়ায়, রাজ্যের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৭৪ শতাংশই এই নির্দিষ্ট খাতগুলিতে ব্যয় হয়ে গিয়েছে। ফলে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও মূলধনী বিনিয়োগে আশানুরূপ অর্থ খরচ করা সম্ভব হয়নি।

বাজেট বরাদ্দের ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের ইঙ্গিত দিয়েছে ক্যাগ। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩,৯০,৬৩৮.০৪ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হলেও খরচ হয়েছে মাত্র ৩,১৯,৯৭৫.৭৯ কোটি টাকা। ফলে ৭০,৬৬২.২৫ কোটি টাকা (মোট বরাদ্দের ১৮.০৯ শতাংশ) অব্যবহৃত থেকে গিয়েছে। অন্যদিকে, ১৩,৪৮৬.৯২ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এই রিপোর্টকে কেন্দ্র করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র নিশানা করেছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য সহ বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকার রাজ্যের প্রকৃত অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার চিত্র আড়াল করতে দীর্ঘ দিন ধরে এই ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করেনি। অন্য দিকে, রাজ্য মন্ত্রিসভার এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, ২০১১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা প্রকাশ্যে আনতেই বিধানসভায় এই ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই রিপোর্টগুলির একটিতে ২০২০ সালের আমফান ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী ক্ষতির মূল্যায়ন বাড়িয়ে দেখানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত ত্রাণ তহবিল পাওয়ার উদ্দেশ্যে ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande