
শিলিগুড়ি, ৩ জুলাই (হি.স.) : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও একবার রেল পরিষেবা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ ফের ট্র্যাকে ফেরার পাশাপাশি ‘বন্ধন’ ও ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুটিও পুনরায় চলাচল শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা এবং বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলি পুরোদমে চালু হওয়ার পর এই আশা আরও জোরদার হয়েছে।
সূত্রের খবর, দুই দেশের রেল আধিকারিকদের মধ্যে লাগাতার বৈঠক চলছে। ট্রেনের রুট, ট্র্যাকের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সমস্ত প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন হলে চলতি মাসের মধ্যেই এই ট্রেন পরিষেবা ফের চালু হতে পারে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ট্র্যাক ও অন্যান্য পরিকাঠামোর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দফতরে রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ অশান্তি ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সরকার মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী— তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছিল। তবে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ থাকলেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক গতিশীলতা বজায় রাখতে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখা হয়েছিল।
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও গতি এসেছে। এরই প্রেক্ষিতে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি ফের চালু করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি দুই দেশের রেল আধিকারিকদের দ্বিতীয় বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতির নিরিখে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি মিলেছে।
প্রায় দু’বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারত ভিসা ইস্যু করাও শুরু করেছে। এর ফলে পর্যটন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনে ভারতে আসেন, যাঁরা এই ট্রেনগুলি পুনরায় চালু হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
রেল সূত্রের খবর, রেল বোর্ডের সবুজ সংকেত মিললেই ট্রেন চলাচলের চূড়ান্ত তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। এই রেল পরিষেবা পুনরায় বহাল হলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে নিউ জলপাইগুড়ি জংশন থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে ‘মিতালী এক্সপ্রেস’-এর সূচনা হয়েছিল। ২০১৭ সালে কলকাতা ও খুলনার মধ্যে চালু হয় ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’। আর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রথম যাত্রিবাহী ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ ২০০৮ সালে কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে পথচলা শুরু করেছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি