
অযোধ্যা, ৪ জুলাই (হি.স.): শ্রী রামজন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের ইস্তফা নিয়ে চলমান জল্পনার মধ্যেই তাঁর সমর্থনে এগিয়ে এল অযোধ্যার সন্ত সমাজ । ট্রাস্টের কাছে চম্পত রায়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করার জন্য জোরালো আবেদন জানিয়েছেন সন্তরা।
ইতিমধ্যেই ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন, তবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আগামী ৬ জুলাই ট্রাস্টের সভাপতি মহন্ত নৃত্য গোপাল দাস মহারাজের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে এই ইস্তফাপত্রটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এই বৈঠকের আগেই চম্পত রায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর পক্ষে সওয়াল করলেন সন্তরা। শনিবার অযোধ্যা সন্ত সমাজের একটি বৈঠকের পর তাঁরা যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সন্তরা স্পষ্ট জানান, চম্পত রায়ের ইস্তফা কোনোভাবেই যেন গ্রহণ করা না হয়। এর পাশাপাশি তাঁরা সরকারের কাছে সমগ্র ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার এবং স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম-এর রিপোর্ট আসার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আবেদন জানিয়েছেন।
মহন্ত রাঘবেশ দাস বেদান্তী বলেন, দান করা অর্থে গরমিলের যে অভিযোগ উঠেছে, তার আসল সত্য এসআইটি তদন্তের পরেই সামনে আসবে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে চম্পত রায়ের ইস্তফা মঞ্জুর করা ঠিক হবে না। তিনি আরও দাবি করেন, ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরিরও এখন দায়িত্ব নেওয়া উচিত এবং তাঁর উচিত সামনে এসে আয়-ব্যয়ের সম্পূর্ণ ডেবিট-ক্রেডিট বা হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে আনা। যদি মানুষের মনে কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে ট্রাস্টেরই উচিত তার সদুত্তর দেওয়া।
বেদান্তী মহারাজ আরও বলেন, চম্পত রায় রাম মন্দির আন্দোলন এবং মন্দির নির্মাণের জন্য দীর্ঘ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি অযোধ্যায় রয়েছেন এবং সন্তরা তাঁকে কাজ করতে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, যিনি নিজেই নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এসআইটি-র দাবি জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। তদন্ত রিপোর্ট আসার পরেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে সন্তরা সমস্ত রামভক্তদের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন, যেন কেউ কোনো গুজবে কান না দেন এবং তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য বজায় রাখেন। তাঁরা একস্বরে বলেন, রাম মন্দিরের দান সংক্রান্ত বিষয়ের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, কিন্তু দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে কাঠগড়ায় তোলা উচিত নয়।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে বামনজি মন্দির, স্বর্গদ্বারের মহন্ত বৈদেহীবল্লভ শরণ, হিন্দু ধামের মহন্ত রাঘবেশদাস বেদান্তী, বিদ্যা কুণ্ড আশ্রমের মহামণ্ডলেশ্বর প্রেমশংকরদাস, রাম কাচারির মহন্ত শশিকান্ত দাস, সাকেত ভবনের মহন্ত সীতারামদাস, সদগুরু বধাই ভবনের মহন্ত রাজীবলোচনশরণ, কিরার মন্দিরের মহন্ত হরিমোহনশরণ, স্বামী দিব্যানন্দ শাস্ত্রী, মহন্ত রবি শঙ্কর শরণ সহ প্রমুখ প্রবীণ সন্তরা উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি