রাম মন্দির তহবিলের টাকা চুরিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক : আলোক কুমার
সৌরভ রাই নয়াদিল্লি, ৪ জুলাই (হি.স.): অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরের পুণ্যার্থীদের দান করা টাকা চুরির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (বিএইচপি) আন্তর্জাতিক সভাপতি আলোক কুমার। ‘হিন
রাম মন্দির


সৌরভ রাই

নয়াদিল্লি, ৪ জুলাই (হি.স.): অযোধ্যার রাম জন্মভূমি মন্দিরের পুণ্যার্থীদের দান করা টাকা চুরির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (বিএইচপি) আন্তর্জাতিক সভাপতি আলোক কুমার।

‘হিন্দুস্থান সমাচার’-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় আলোক কুমার বলেন, এই ঘটনা সমগ্র হিন্দু সমাজকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। সংগঠন প্রথম থেকেই এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ঘটনার কথা জানতে পেরেই তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এফআইআর দায়ের করার, অভিজ্ঞ আধিকারিকদের দিয়ে তদন্ত করানোর এবং দ্রুত সত্য উদঘাটনের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে মামলার শুনানির দাবি তোলা হয়েছিল।

চম্পত রাই, অনিল মিশ্র এবং গোপাল রাওদের আড়াল করার যে অভিযোগ উঠছে, সে প্রসঙ্গে ভিএইচপি-র আন্তর্জাতিক সভাপতি সাফ জানান, সংগঠন কোনো ব্যক্তিকেই আড়াল করার পক্ষে নয়। তিনি বলেন, যাঁদের যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তদন্তে যদি কেউ আমলযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তবে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা উচিত।

মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির মধ্যে আলোক কুমার স্বীকার করেন যে, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য শক্তিশালী প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, মন্দিরের সমস্ত পরিচালনা করে ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট’। তাঁর পরামর্শ, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞ প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়োগ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে ভক্তদের দেওয়া দানের একটি টাকাও অপচয় বা চুরি না হয়।

চম্পত রাইয়ের কথিত বয়ান এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অবশ্য বেশ সংযত অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, কেবল মিডিয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারও বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়াটা তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে। তবে তিনি পুনর্বার জোর দিয়ে বলেন, তদন্তে যদি কারও গাফিলতি বা অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে তাঁকে কোনো অবস্থাতেই রেয়াত করা উচিত নয়।

এদিকে, ট্রাস্ট ভেঙে দেওয়ার দাবির পরিপ্রক্ষিতে বিএইচপি-র মত হলো, কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ট্রাস্ট ভেঙে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। সংগঠনের দাবি, ট্রাস্টের বাকি সদস্যরা সম্মানিত ব্যক্তি এবং শ্রদ্ধেয় সন্ত। আলোক কুমার বলেন, কোটি কোটি রামভক্তের বিশ্বাস বজায় রাখার একমাত্র উপায় হলো—সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত শেষ করা, দোষীদের শাস্তি দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে একটি নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande