
নয়াদিল্লি, ৫ জুলাই (হি.স.): অযোধ্যায় শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনায় শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি মহারাজ প্রথমবার প্রতিক্রিয়া জানালেন| তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, প্রণামী গণনার স্থান এবং সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না| এই জঘন্য অপরাধের তদন্তে তিনি কারওর পক্ষে বা বিপক্ষে নন; তিনি সত্যের পক্ষে। তিনি বিশ্বাস করেন, দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়া উচিত।
শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ গিরি মহারাজ একটি বিবৃতি জারি করে বলেছেন, প্রণামী চুরির ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত, দুঃখিত ও লজ্জিত। তিনি বলেন, কত কী চুরি হয়েছে, কবে হয়েছে, কীভাবে হয়েছে— এটাই তদন্তের বিষয়। এই তদন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ হওয়া উচিত। তদন্তকারী সংস্থার ওপর ভরসা রাখুন। আদালত নিজের কাজ করবে। এসআইটি এবং পুলিশের ওপর আমাদের বিশ্বাস আছে। দোষীরা পার পাবে না। সকলেরই তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা উচিত। আমরা কারওর পক্ষেও নই, কারওর বিপক্ষেও নই। আমরা সত্যের সঙ্গে আছি। আমাদের দাবি, পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা দোষীদের গ্রেফতার করুক এবং তাদের শাস্তি দিক।
শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্রের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ গিরি জি মহারাজ অযোধ্যায় পৌঁছানোর আগে একটি পত্র প্রকাশ্যে এনেছেন। এতে তিনি এই পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অযোধ্যা মন্দিরে ঘটে যাওয়া অবিশ্বাস্যভাবে এই প্রণামী আত্মসাতের ঘটনা রামভক্তদের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। কিছু লোক সোনা-রুপোর গয়না গণনার সময় চুরির মতো জঘন্য পাপ করেছে। এতে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত, দুঃখিত ও লজ্জিত। গোবিন্দ গিরি মহারাজ তাঁর চিঠিতে বেশ কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, তহবিলে জমা হওয়া অর্থের হিসাব সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে এবং অনুমোদিত ব্যক্তিরা এটি যাচাই করতে পারেন। এছাড়া রাম মন্দিরের সমস্ত ব্যয় সরাসরি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে করা হয়| তিনি এর কোনও অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী নন। প্রণামীর বিষয়ে গোবিন্দ গিরি মহারাজ বলেন, রামভক্তদের দ্বারা দানপাত্রে দেওয়া প্রণামী যেখানে গণনা হয়, সেই স্থানের সঙ্গে প্রথম থেকেই আমার কোনও সম্পর্ক ছিল না। আমার বাসস্থান পুণেতে। ধর্মীয় কথকতা প্রচারের জন্য আমাকে প্রায়শই ভ্রমণ করতে হয়। প্রণামী গণনা একটি দৈনন্দিন কাজ। স্থানীয় ট্রাস্টিরা শুরু থেকেই এর তত্ত্বাবধান করে আসছেন। এর এসওপি (গণনা প্রক্রিয়ার জন্য যৌথভাবে নির্ধারিত নির্দেশিকা) স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে মিলে তাঁরা তৈরি করেছেন। সেটি এই মাসে আমাকে দেখানো হয়েছে।
গোবিন্দ গিরি মহারাজের বক্তব্য, তিনি কখনও ট্রাস্টি বা কোষাধ্যক্ষ হওয়ার চেষ্টা করেননি। ট্রাস্টি হওয়ার পর থেকে তিনি মন্দিরের জন্য কারওর কাছ থেকে কোনও নগদ বা বস্তু অনুদান হিসেবে গ্রহণ করেননি। এ ছাড়া, তিনি চেক ব্যতীত অন্য কোনও মাধ্যমে কখনও কিছু নেননি। তিনি আরও জানান যে, প্রতি এক-দেড় মাসে ট্রাস্টের কাজে তিনি অযোধ্যায় আসেন এবং ট্রাস্ট তাঁর বিমান ও অন্যান্য যাতায়াত খরচ বহন করে না। তিনি জানান, সিন্ধি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ভক্তিভরে উৎসর্গ করা ২০০ কেজি রুপোর ২০০টি ইট মূল্যবান ধাতুর রেজিস্টারে নথিভুক্ত রয়েছে। এগুলিকে খাঁটি রুপোর ইটে ঢালাই করে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (অযোধ্যা শাখা) লকারে নিরাপদে রাখা হয়েছে।
গোবিন্দ গিরি মহারাজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, ভগবান শ্রীরামের কৃপায় খুব শীঘ্রই সত্য প্রকাশিত হবে এবং সন্দেহের মেঘ কেটে যাবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা হবে। সনাতন ধর্ম এবং মন্দিরের গৌরবকে নষ্ট করার কোনও প্রচেষ্টা ভগবান সফল হতে দেবেন না।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ