
নয়াদিল্লি, ৫ জুলাই (হি.স.) : পঞ্জাব কংগ্রেসে বিধানসভা নির্বাচন কমিটির তালিকা নিয়ে অসন্তোষ ও অন্তর্দ্বন্দ্বের জল্পনা উড়িয়ে দিলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, কংগ্রেস একটি গণতান্ত্রিক দল, যেখানে নেতা-কর্মীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। দলের মধ্যে কোনও ধরনের অসন্তোষ নেই।
রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়রাম রমেশ বলেন, কংগ্রেসে বহু অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন। তাঁদের সমর্থকেরা উৎসাহের সঙ্গে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। সেই উৎসাহকেই অনেক সময় সংবাদমাধ্যমে মতবিরোধ হিসেবে তুলে ধরা হয়। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে দলে কোনও গুরুতর সংকট রয়েছে। কংগ্রেসে মত প্রকাশের স্বাধীনতাই দলের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচয়।
তিনি বলেন, পঞ্জাবে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হচ্ছে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে। রাজ্যের মানুষ পরিবর্তন চান এবং কংগ্রেসই সেই বিকল্প হিসেবে উঠে আসবে।
লোকসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) এবং সম্ভাব্য সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে জয়রাম রমেশ বলেন, গণতান্ত্রিক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী যে কোনও প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস। তাঁর অভিযোগ, সংসদে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
কর্নাটকের এসআইআর প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির একটি অঙ্গের মতো কাজ করছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরোধিতা নয়, তবে যেভাবে তা করা হচ্ছে, তা নিয়ে কংগ্রেসের গুরুতর আপত্তি রয়েছে। কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে দল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অযোধ্যার রামমন্দিরে প্রণামী চুরির অভিযোগের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের কোনও বর্তমান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন জয়রাম রমেশ। পাশাপাশি, এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়া, 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস সাংসদ কে. সি. বেণুগোপালের বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের নোটিসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন লোকসভার স্পিকারের যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য