রাহুল গান্ধীর ‘মিথ্যাচার’ ও সংসদ অচল করার রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব রাজ্য বিজেপি
কলকাতা, ১১ আগস্ট (হি.স.): “রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের ভূমিকা আজ সংসদীয় গণতন্ত্রের সমস্ত গরিমা ও মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।” রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মঙ্গলবার এই মম্তব্য করলেন বিজেপি-র মুখপাত্র দেবজি
দেবজিত সরকার


কলকাতা, ১১ আগস্ট (হি.স.): “রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের ভূমিকা আজ সংসদীয় গণতন্ত্রের সমস্ত গরিমা ও মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।” রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মঙ্গলবার এই মম্তব্য করলেন বিজেপি-র মুখপাত্র দেবজিত সরকার।

দেবজিতবাবু বলেন, “দিনের পর দিন মিথ্যা বলা, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং প্রোপাগান্ডা চালানো এখন তাঁদের রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় যে সংসদ চলে, সেই সংসদকে অচল করে রাখার অধিকার কারও নেই।”

তিনি বলেন, “NEET পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধী বারবার নিজের দাবির গোলপোস্ট বদলেছেন। প্রথমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছিল। গ্রেফতার শুরু হওয়ার পর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হলো। সরকার আলোচনায় বসতে রাজি হলে আবার বলা হলো, আলোচনা নয়, পদত্যাগ চাই। এরপর NEET পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার দাবি উঠল। সরকার সেই আলোচনাতেও রাজি হওয়ার পর নতুন দাবি—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং তাঁর বিবৃতি।”

দেবজিত সরকার বলেন, “এটা কোনো গঠনমূলক বিরোধিতা নয়। এটা সংসদীয় পদ্ধতিকে বানচাল করার পরিকল্পিত চেষ্টা। সরকার যখন বারবার বলছে, আসুন আলোচনায় বসি, তখন আলোচনা থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং সংসদ অচল করে রাখা আসলে গণতন্ত্রের প্রতি অবমাননা।”

NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই CBI এবং রাজ্য পুলিশের তদন্তে বিভিন্ন রাজ্য থেকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হরিয়ানা এবং বিহার থেকে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “যারা নিজেদের পড়ুয়া বলে দাবি করে আন্দোলন করছিল, তাদের আন্দোলনের সঙ্গে NEET পরীক্ষার্থীদের দাবির কতটা সম্পর্ক ছিল, সেটাও দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট হওয়া দরকার। সেখানে এমন স্লোগান উঠেছে, যার সঙ্গে পরীক্ষা বা পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থনে স্লোগানও শোনা গেছে।”

ঝাড়খণ্ডের ঘটনাকে সামনে এনে রাহুল গান্ধীর দ্বিচারিতার সমালোচনা করে দেবজিত সরকার বলেন, “ঝাড়খণ্ডে JSSC CGL পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে পড়ুয়ারা আন্দোলন করছেন। তাঁদের দাবি, পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হোক। এই দাবি অন্যায় নয়। কিন্তু সেখানে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। নয় দিন অনশনের পর আন্দোলনকারীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে, একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।”

তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী তখন কোথায় ছিলেন? যখন ঝাড়খণ্ডে আন্দোলন চলছিল, তখন তিনি নীরব ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরে এবং পড়ুয়ারা আহত হওয়ার পরে হঠাৎ তাঁর মনে হলো—‘The use of force against students protesting in Jharkhand is wrong.’ নিজের রাজনৈতিক সুবিধামতো কখনও আন্দোলনকে সমর্থন, কখনও নীরবতা—এই দ্বিচারিতা দেশের মানুষ বুঝে গিয়েছে।”

দেবজিত সরকার বলেন, “রাহুল গান্ধী যদি সত্যিই মনে করেন যে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব, তাহলে সংসদে আলোচনা বন্ধ করছেন কেন? যন্তর মন্তরে আলোচনা বন্ধ করেছেন কেন? ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের নয় দিন ধরে চলা আন্দোলনের সময় তিনি কোথায় ছিলেন? নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে নির্বাচিত ঘটনাকে সামনে এনে বিবৃতি দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল বিরোধী রাজনীতি নয়।”

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত




 

 rajesh pande