ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন দিশা, মডেল জেলা পশ্চিম ত্রিপুরা
আগরতলা, ১১ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরায় সমন্বিত, ডিজিটাল ও নাগরিককেন্দ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম-এর উপর গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাকে রাজ্যের মডেল জে
আগরতলায় কর্মশালা


আগরতলা, ১১ আগস্ট (হি.স.) : ত্রিপুরায় সমন্বিত, ডিজিটাল ও নাগরিককেন্দ্রিক স্বাস্থ্য পরিষেবা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম-এর উপর গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইসঙ্গে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাকে রাজ্যের মডেল জেলা হিসেবে ঘোষণা করে ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। মঙ্গলবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ডাঃ সুনীল কুমার বার্নওয়াল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সচিব কিরণ গিত্তে, ন্যাশনাল হেলথ অথরিটির ডিরেক্টর ডাঃ পঙ্কজ কুমার অরোরা, ডেপুটি সেক্রেটারি ডাঃ শৈলেশ কুমার যাদব, স্বাস্থ্য দফতরের অতিরিক্ত সচিব ও এনএইচএম-এর মিশন ডিরেক্টর সাজু ওয়াহিদ এ. এবং পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসক ডাঃ বিশাল কুমার।

সমগ্র কর্মসূচির আহ্বায়ক ছিলেন আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশন, ত্রিপুরার স্টেট মিশন ডিরেক্টর ডাঃ জি শরৎ নায়েক। কর্মশালায় ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম-এর কার্যকারিতা, স্বাস্থ্য পরিষেবায় তথ্যের সমন্বয় এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় রোগীর তথ্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্যের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও আন্তঃপরিচালনযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য-তথ্য দ্রুত আদানপ্রদান, পরিষেবা প্রদানে সময় কমানো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাকে মডেল জেলা হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে রাজ্যে এই ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মডেল জেলার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এই ধরনের সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার পথ প্রশস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের আশা।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য আরও সহজলভ্য, দ্রুত ও স্বচ্ছ পরিষেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়লে রোগী পরিষেবা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য প্রশাসনের পরিকল্পনা ও নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের আওতায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম-এর সূচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও নাগরিকমুখী করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande