
হাফলং (অসম), ১৭ আগস্ট (হি স)। ডিমা হাসাও জেলার লাইসং পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নবজিৎ দাসের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় এনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেছেন যে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়; বরং মাদক মাফিয়াদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশের হাতে থাকা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে এই দাবি করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লাইসং এলাকায় নাকা চেকিং চলাকালীন কর্তব্যরত অবস্থায় এসআই নবজিৎ দাসকে একটি গাড়ি দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মেরে হত্যা করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মাদক চক্রের সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছিল। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এবং এই মামলার কথিত মূলচক্রী সেলিম উদ্দিন ইসলামকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি বৃহৎ মাদক চক্রের যোগসূত্র থাকতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা বলেন, “অসম সরকার মাদকের বিরুদ্ধে নিরলস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে মাদক মাফিয়ারা সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কত বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। আমরা সামনে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি এবং এই অভিযান ভবিষ্যতেও আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, মাদক পাচার ও এর সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রকে নির্মূল করতে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। গত কয়েক বছরে অসম পুলিশ ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা একাধিক সফল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে এবং অসংখ্য পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে, এসআই নবজিৎ দাসের মৃত্যুতে সমগ্র ডিমা হাসাও জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কর্তব্যরত অবস্থায় এক সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিভিন্ন মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নবজিৎ দাস একজন নিষ্ঠাবান ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার পেছনের সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সামনে আসবে। রাজ্য সরকারও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। ডিমা হাসাওয়ের এই ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মাদক চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং সমাজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব