তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের এফআইআর বাতিলের আর্জি : হাইকোর্টে খারিজ দ্রুত শুনানির আবেদন
কলকাতা, ১৭ আগস্ট (হি. স.) : তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর চ্যালেঞ্জ করে জমা পড়া আবেদনের দ্রুত শুনানির আর্জি সোমবার খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে দিলীপ মণ্ডলের পক্ষে প্রবীণ
কলকাতা হাইকোর্ট


কলকাতা, ১৭ আগস্ট (হি. স.) : তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর চ্যালেঞ্জ করে জমা পড়া আবেদনের দ্রুত শুনানির আর্জি সোমবার খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে দিলীপ মণ্ডলের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কিশোর দত্ত মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

আদালতে আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে একের পর এক নতুন এফআইআর রুজু করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন অভিযোগে পুলিশ একটি করে নতুন মামলা করছে এবং বর্তমানে এই ধরনের এফআইআর-এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯। সেই কারণেই আর্জিটির দ্রুত শুনানি প্রয়োজন।

তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এখনই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি মঞ্জুর করেননি। আদালত জানায়, আগামী শুক্রবার হয়তো মামলাটির শুনানি সম্ভব হতে পারে, তার আগে নয়। বিধায়কের আবেদন ক্রমানুসারে নিয়ম মেনেই তালিকাভুক্ত হয়ে শুনানির জন্য আসবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলকে গত মে মাসে ওড়িশার পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশান্তি ছড়ানোর মতো একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে। ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে গেলেও বিষ্ণুপুর আসন থেকে জয়ী হন দিলীপ মণ্ডল। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে এলাকায় দেখা যাচ্ছিল না। অন্যদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠায় পুলিশ পরবর্তীতে তাঁর ছেলেকেও গ্রেফতার করে।

গত মে মাসে সামাজিক মাধ্যমে দিলীপ মণ্ডলের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে (যদিও তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি)। অভিযোগ ওঠে, ভিডিওটিতে তিনি প্রতিপক্ষ দলের কর্মী-সমর্থকদের সরাসরি হুমকি দিচ্ছেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জমা পড়ে এবং পুলিশ জামিনঅযোগ্য ধারায় তদন্ত শুরু করে।

অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৪ মে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে বিধায়কের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়, কিন্তু তিনি অধরা থাকেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযানের আঁচ পেয়েই তিনি ঘর ছেড়ে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) খবর পায় যে তিনি পুরীর একটি হোটেলে রয়েছেন। এরপর এসটিএফ ও ডায়মন্ড হারবার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পুরীর ওই হোটেল থেকেই দিলীপ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande