
বীরভূম, ১৭ আগস্ট (হি.স.): বীরভূমের তারাপীঠে সোমবার ভোররাতে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে অন্তত সাতজনের। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন হোটেলের আরও বেশ কয়েকজন অতিথি। তাঁদের উদ্ধার করে রামপুরহাট সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরেই তদন্তে নেমে পুলিশ হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে আটক করেছে। সুরক্ষা সংক্রান্ত গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হোটেলের জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বীরভূম জেলা পুলিশ। জানা গেছে, হোটেলের পিছনের দিকের দরজাটি বন্ধ ছিল। সেটি খোলা থাকলে হয়তো আরও কিছু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। এ ছাড়া ছাদে ওঠার দরজাও প্লাইউড জাতীয় সামগ্রী দিয়ে বন্ধ করা ছিল, যার ফলে ভেতরে তৈরি হওয়া ধোঁয়া বাইরে বের হতে পারেনি এবং হোটেলের ভেতরেই তা জমতে শুরু করে। এদিন খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও দমকলবাহিনী পৌঁছায় এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। ব্যালকনি ও হোটেলের বিভিন্ন অংশে আটকে থাকা বহু মানুষকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ তারাপীঠ থানার অদূরে একটি পুকুরের কাছে অবস্থিত ‘বিদিশিনী’ নামে ওই হোটেলের নিচতলায় আচমকা আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় হোটেলের ভিতরে থাকা অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। ঘটনার সময় বেশিরভাগ পুণ্যার্থী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। দেখতে দেখতে সেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং গোটা হোটেল ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বহু মানুষ নিজেদের ঘরের ভেতরেই আটকে পড়েন। খবর পেয়েই তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ এবং দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দমকলকর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ