
বাঁকুড়া, ১৭ আগস্ট ( হি. স.): বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার করিশুন্ডা গ্রামে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থক সেখ আব্দুল হাফিজের বাড়িতে হামলায় তাঁর বাবা সেখ মাফি-র মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সুখেন বিদ সোমবার সেখ আব্দুল হাফিজের ইন্দাসের বাড়িতে যান এবং নিজের ফোন থেকে মমতার সঙ্গে তাঁর কথা বলিয়ে দেন। ফোনে মমতা বলেন, রাজ্যে জঘন্যতম পরিবেশ চলছে। তিনি হাফিজকে তাঁর বাবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, থানার অভিযোগের কপি ও অন্যান্য নথি এবং ছবি নিয়ে দ্রুত কলকাতায় তাঁর সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দেন। তৃণমূল কংগ্রেস সম্পূর্ণভাবে তাঁদের পাশে রয়েছে বলে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সুখেন্দু বিদ বা দোলা সেনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজে থেকে ফোন করে পাশে দাঁড়ানোয় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আব্দুল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেখ আব্দুল হাফিজ সিজেপি-র আন্দোলনে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে তিনি গ্রামের বিদ্যালয়ের বেহাল দশার ছবি ও ভিডিও তুলে প্রতিবাদে সরব হন। অভিযোগ, এর জেরেই গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টা নাগাদ স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং হাফিজের বাবা সেখ মাফিকে বেধড়ক মারধর করে। পাশাপাশি হাফিজের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিওগুলি মুছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
গুরুতর আহত অবস্থায় সেখ মাফিকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দু'দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৫ আগস্ট রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার এসএফআই -এর একটি প্রতিনিধি দলও সেখ আব্দুল হাফিজের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানায়। জেলা পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃত শেখ মাফির স্ত্রী হামিদা বেগমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ৮ জনকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
শেখ আব্দুল হাফিজ জানিয়েছেন, সিজেপি-র রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং শিগগিরই একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল তাঁর বাড়িতে আসতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট