
আগরতলা, ১৭ আগস্ট (হি.স.) : জনজাতিদের স্বার্থে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তি দ্রুত সম্পাদিত না হলে পৃথক রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন। বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি কার্যত কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, তিপ্রাসা চুক্তি নিয়ে জনজাতি সমাজের মধ্যে প্রবল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দ্রুত চুক্তি সম্পাদিত হলে অতীতের রাজনৈতিক তিক্ততা ভুলে যেতে প্রস্তুত তিনি। অন্যথায় পৃথক পথ বেছে নেওয়ার জন্যও তিপ্রা মথা প্রস্তুত।
আসন্ন টিটিএএডিসি-র ভিলেজ কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার তিপ্রা মথার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন, বর্ষীয়ান নেতা বিজয় কুমার রাঙ্খল, দলের অধিকাংশ বিধায়ক, এমডিসি-সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে আসন্ন ভিলেজ কমিটির নির্বাচন, দলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন জানান, দিল্লিতে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে মূলত তিপ্রাসা চুক্তি নিয়েই আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরার জনজাতিরা এই চুক্তি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতি তাঁর এবং দলের দৃঢ় আস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে সেই আস্থার পাশাপাশি নিজের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও স্পষ্ট করে দেন মথা সুপ্রিমো। তাঁর অভিযোগ, সদ্য সমাপ্ত টিটিএএডিসি নির্বাচনের সময় তিপ্রা মথাকে ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল। দলের বিরুদ্ধে কারা কাজ করেছিলেন, কোন বিধায়করা তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন এবং কোন এমডিসিদের দলে টানার চেষ্টা হয়েছিল—সেসব তিনি ভুলে যাননি বলেও স্পষ্ট করেন প্রদ্যোৎ কিশোর।
তিনি বলেন, টিটিএএডিসি নির্বাচনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণও করা হয়েছিল। এমনকি কয়েকজন এমডিসি তিপ্রা মথা ছেড়ে চলে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে অতীতের এই সমস্ত ঘটনা তিনি ভুলে যেতে প্রস্তুত বলে জানান মথা সুপ্রিমো।
প্রদ্যোৎ কিশোরের বক্তব্যে কার্যত কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে সময়সীমার ইঙ্গিতও রয়েছে। তাঁর কথায়, জনজাতিদের স্বার্থে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদিত হলে দলের সঙ্গে বিজেপি-র সম্পর্কের বর্তমান সমীকরণ আরও এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু চুক্তি না হলে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে পারে। প্রয়োজনে পৃথক রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়ার জন্য তিপ্রা মথা প্রস্তুত—এমনই বার্তা দেন তিনি।
এদিনের বৈঠক ও প্রদ্যোৎ কিশোরের বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে তিপ্রা মথার পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনের আগে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতি আঁচ করেই প্রদ্যোৎ কিশোর এদিন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
আরও একটি সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ত্রিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আসন্ন ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে বিজেপি-র সঙ্গে সমঝোতার বদলে তিপ্রা মথা ‘একলা চলো’ নীতি গ্রহণ করতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
তবে প্রদ্যোৎ কিশোরের এদিনের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—জনজাতি স্বার্থে ত্রিপাক্ষিক চুক্তিকে সামনে রেখেই আগামী দিনের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে চাইছে তিপ্রা মথা। ফলে চুক্তি নিয়ে দিল্লির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ভিলেজ কমিটির নির্বাচনে মথার কৌশল—এই দুই বিষয়ই এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম নজরকাড়া ইস্যু হয়ে উঠেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ