
বাঁকুড়া, ১৮ আগস্ট (হি. স.) : লাগাতার বৃষ্টিতে জেলার নদীগুলি ফুলেফেঁপে উঠেছে। বিভিন্ন নদীর উপর থাকা কজওয়েগুলির উপর দিয়ে বইছে জল। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু গ্রামের যোগাযোগ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কজওয়ে পারাপার করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।
মঙ্গলবার ছাতনা-মেজিয়া রাজ্য সড়কে গাইঘাটা জোড়ের উপর থাকা মাতাবেল কজওয়ের উপর দিয়ে বেগে জল বইতে শুরু করে। একটানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলেই দামোদরের শাখা নদী গাইঘাটা জোড়ের জলে ডুবে যায় মেজিয়া-ছাতনা রাজ্য সড়কের এই কজওয়ে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। কজওয়ের উপর বিপদসীমার উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করায় ওই রাজ্য সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল সেতু দিয়ে নদী পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, কজওয়েটি উঁচু করার জন্য বারবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রশাসনের তরফে একাধিকবার নতুন সেতু নির্মাণের প্রাথমিক সমীক্ষাও হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কাজ শুরু না হওয়ায় একটানা বৃষ্টি বা বর্ষাকালে দু’পারের হাজার হাজার বাসিন্দার দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সমস্যা নতুন নয়। বাম আমল থেকেই মাতাবেল কজওয়ের পরিবর্তে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এই কজওয়ে শুধু যাতায়াতের রাস্তা নয়, শতাধিক গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ভরসা।
অতিবৃষ্টি হলেই সেই ভরসার কজওয়ে পরিণত হয় আতঙ্কে। কজওয়ের উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করলেই বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার যোগাযোগ। স্কুল-কলেজ, বাজার, কর্মস্থল থেকে শুরু করে জরুরি চিকিৎসা—সব ক্ষেত্রেই তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। স্থানীয়দের ক্ষোভ, রাজ্যে একাধিকবার সরকার বদলালেও বদলায়নি মাতাবেল কজওয়ের পরিস্থিতি। নতুন সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান হোক। উন্নয়নমুখী সরকারের হাত ধরে কজওয়ের পরিবর্তে স্থায়ী সেতু তৈরির আশায় তাঁরা।
মুকুটমণিপুরে কংসাবতী জলাধার থেকেও জল ছাড়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের জেরে আগাম সতর্কতা হিসেবে চলতি মরশুমে প্রথমবার মুকুটমণিপুরের কংসাবতী জলাধারের লকগেট খোলা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা থেকে জলাধারের তিনটি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে ৫ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া শুরু হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে কংসাবতী জলাধারের জলস্তর বেড়ে সোমবার দুপুরে প্রায় ৪৩০ ফুটে পৌঁছয়। জলাধারটির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৩৪ ফুট। কংসাবতী ও কুমারী নদী দিয়ে আরও জল ঢোকার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে জল ছাড়া হয়েছে বলে সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।
বাঁকুড়ার নিম্ন অববাহিকা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে সেচ দফতরের আশ্বাস, বর্তমানে যে পরিমাণ জল ছাড়া হচ্ছে তাতে বন্যা পরিস্থিতির কোনও আশঙ্কা নেই।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট