নিউ হারাঙ্গাজাওয়ে রেলপথ মেরামতে ফের বাধা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
হাফলং (অসম), ১৮ আগস্ট (হি. স.) : লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনের নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলপথ পুনরুদ্ধারের কাজ নিয়ে জটিলতা কিছুতেই কাটছে না। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামতের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্
New Harangajao


হাফলং (অসম), ১৮ আগস্ট (হি. স.) : লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনের নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলপথ পুনরুদ্ধারের কাজ নিয়ে জটিলতা কিছুতেই কাটছে না। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামতের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ, অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকায় অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে বারবার ব্যাহত হচ্ছে সেই কাজ। ফলে কবে নাগাদ নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন ১ নম্বর ও ২ নম্বর লাইন সম্পূর্ণরূপে সচল করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই নিউ হারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টির জেরে রেললাইনের নীচের মাটি ও পাথর ধসে যাওয়ায় ১ নম্বর ও ২ নম্বর লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই দুই লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে স্টেশনের ৩ নম্বর লাইন ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে দূরপাল্লার ট্রেন পরিষেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পুনরুদ্ধারে গত প্রায় এক মাস ধরে রেলকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি লাগাতার কাজ করে চলেছেন। ধসে যাওয়া অংশে মাটি ও পাথর ভরাট, মাটি শক্তকরণ এবং রেললাইনের নীচের অংশ পুনর্গঠনের কাজ চালানো হচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় বারবার বৃষ্টিপাতের কারণে সদ্য সম্পন্ন করা কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রেল সূত্রে জানা গেছে, গত দু’দিনের বৃষ্টিপাতের ফলে ২ নম্বর লাইনের নীচে মাটি ও পাথর ভরাট করে যে অংশটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি ফের কিছুটা বসে গেছে। ফলে ওই অংশে আবারও মাটি-পাথর দিয়ে ভরাট ও মেরামতির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই পুনরুদ্ধারের কাজ আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি এই রেলপথের মাটি অত্যন্ত দূর্বল হওয়ায় অতিবৃষ্টির সময় নতুন করে মাটি সরে যাওয়া বা ধস নামার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। রেললাইনের নীচের মাটি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তড়িঘড়ি করে লাইন খুলে দেওয়ার পরিবর্তে নিরাপত্তার বিষয়টিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে রেল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, ১ ও ২ নম্বর লাইন বন্ধ থাকায় একটি মাত্র লাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে। এর ফলে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ক্রসিং এবং সময়সূচি বজায় রাখার ক্ষেত্রে চাপ বাড়ছে। যাত্রীদেরও এর প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে রেলপথের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং নিয়মিত রেলযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কবে নাগাদ ১ নম্বর ও ২ নম্বর লাইন সম্পূর্ণরূপে ট্রেন চলাচলের উপযোগী হবে। এর আগে দ্রুত কাজ শেষ করার সম্ভাবনার কথা সামনে এলেও, লাগাতার বৃষ্টিপাত এবং মেরামত করা অংশে ফের মাটি বসে যাওয়ার ঘটনায় সেই সময়সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, নিউ হারাঙ্গাজাওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি রেলপথে স্থায়ী সমাধানের জন্য শুধু ধসে যাওয়া অংশে মাটি ভরাট করলেই হবে না; রেললাইনের নীচের মাটি ও পাহাড়ি ঢালকে দীর্ঘমেয়াদি ভাবে স্থিতিশীল করার প্রয়োজন রয়েছে। বর্ষাকালে বারবার একই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ভবিষ্যতেও ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। তবে রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পাহাড়ে বৃষ্টির প্রকোপ অব্যাহত থাকায় প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই এগোতে হচ্ছে মেরামতির কাজ। ফলে নিউহারাঙ্গাজাও স্টেশন সংলগ্ন ১ ও ২ নম্বর লাইন কবে সম্পূর্ণ সচল হবে, সেই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনই মিলছে না। বরং প্রতিদিনের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপরই অনেকটাই নির্ভর করছে এই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের পুনরুদ্ধারের সময়সীমা।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande