১ সেপ্টেম্বর মেত্তুর বাঁধ থেকে ডেল্টা সেচের জন্য জল ছাড়ার প্রস্তুতি তুঙ্গে
সেলম, ২৮ আগস্ট (হি.স.): ডেল্টা অঞ্চলে সেচের জন্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর মেত্তুর বাঁধ থেকে জল ছাড়ার প্রস্তাবিত কর্মসূচিকে ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় মেত্তুর বাঁধ থেকে ডেল্টা সেচের জন
১ সেপ্টেম্বর মেত্তুর বাঁধ থেকে ডেল্টা সেচের জন্য জল ছাড়ার প্রস্তুতি তুঙ্গে


সেলম, ২৮ আগস্ট (হি.স.): ডেল্টা অঞ্চলে সেচের জন্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর মেত্তুর বাঁধ থেকে জল ছাড়ার প্রস্তাবিত কর্মসূচিকে ঘিরে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিজয় মেত্তুর বাঁধ থেকে ডেল্টা সেচের জন্য জল ছাড়বেন। কর্মসূচিকে সামনে রেখে জলসম্পদ দফতর, পুলিশ-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর প্রস্তুতি শুরু করেছে।

প্রতি বছর ১২ জুন মেত্তুর বাঁধ থেকে ডেল্টা অঞ্চলের সেচের জন্য জল ছাড়া হয়। তবে চলতি বছরে বাঁধে পর্যাপ্ত জল মজুত না থাকায় নির্ধারিত দিনে জল ছাড়া সম্ভব হয়নি। একই কারণে ১ আগস্ট পূর্ব ও পশ্চিম খালের সেচের জন্যও জল ছাড়া যায়নি।

সময়মতো সেচের জল না পাওয়ায় ডেল্টা অঞ্চলের কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। বেশ কিছু এলাকায় জলের অভাবে ফসল শুকিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কৃষকদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধান চাষে সহায়তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী বিজয় ১৩৪ কোটি টাকার কুরুভাই বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন।

এদিকে কর্নাটকের কাবিনী ও কে আর এস বাঁধ থেকে ছাড়া জল ওকেনাক্কল হয়ে মেত্তুর বাঁধের দিকে আসতে শুরু করেছে। ফলে মেত্তুর বাঁধে জলের প্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। আধিকারিকদের আশা, শীঘ্রই বাঁধের জলস্তর ৯০ ফুটে পৌঁছতে পারে।

জলের বর্তমান মজুত ও সম্ভাব্য জলপ্রবাহের কথা মাথায় রেখেই ১ সেপ্টেম্বর থেকে ডেল্টা সেচের জন্য জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। শুক্রবার সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত বাঁধে থাকা জল ও জলপ্রবাহের পরিমাণ বিবেচনা করে সেচের জন্য জল ছাড়া হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সেচবর্ষের শুরুতে মেত্তুর বাঁধে ব্যবহারযোগ্য জল মজুত ছিল মাত্র ৪১.২২৩ টিএমসি। কর্নাটকের বাঁধগুলি থেকে পর্যাপ্ত জল না পাওয়া এবং বাঁধে ন্যূনতম ১০ টিএমসি জল মজুত রাখা বাধ্যতামূলক হওয়ায় এতদিন ডেল্টা সেচের জন্য নিয়মিত জল সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবিত জল ছাড়ার কর্মসূচিকে সামনে রেখে মেত্তুর বাঁধ চত্বরে বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা পরিদর্শন করেন। পুলিশ, জলসম্পদ দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি পরিবহণ দফতরের মন্ত্রী বিজয় তামিলন পার্থিবনও বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন।

বর্তমানে জলসম্পদ দফতরের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। বাঁধের আশপাশে থাকা ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবেশদ্বার এবং সংলগ্ন দেওয়ালে রং করার কাজও দ্রুতগতিতে চলছে।

বাঁধ চত্বরে প্রচুর সংখ্যক বাঁদরের উপস্থিতির কারণে বন দফতরও ব্যবস্থা নিচ্ছে। বাঁদরগুলিকে নিরাপদে ধরার জন্য এলাকায় খাঁচা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande