
নয়াদিল্লি, ২৯ আগস্ট (হি.স.): রেললাইনের নীচে সাবওয়ে নির্মাণের মতো জটিল কাজ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কম সময়ে সম্পন্ন করছে ভারতীয় রেল। আহমেদাবাদে আট ঘণ্টারও কম সময়ের রাতের রেল ব্লকে ২১ মিটার দীর্ঘ ফুট সাবওয়ে বসানো হয়েছে। অন্যদিকে, ভিওয়ান্ডিতে সাতটি চালু রেললাইনের নীচে হাইড্রলিক পুশিং প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে জলরোধী ফুট সাবওয়ে। দুই প্রকল্পেই কারখানায় তৈরি প্রি-কাস্ট আরসিসি বক্স এবং আধুনিক জলরোধী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
শনিবার রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, আহমেদাবাদে পশ্চিম রেলের নির্মাণ শাখা কারখানায় তৈরি প্রি-কাস্ট আরসিসি বক্স ঘটনাস্থলে বসিয়ে ফুট সাবওয়ে নির্মাণ করেছে। ২১ মিটার দীর্ঘ এই সাবওয়েতে ১৪টি প্রি-কাস্ট সেগমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। কাট-অ্যান্ড-কভার পদ্ধতিতে আট ঘণ্টারও কম সময়ের রাতের ব্লকে সেটি বসানো হয়। এর ফলে দীর্ঘ সময় রেল চলাচল বন্ধ না রেখেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
সাবওয়ের শক্তি ও জলরোধী ক্ষমতা বাড়াতে আরসিসি বক্সে পোস্ট-টেনশনিংয়ের পাশাপাশি সোয়েলিং গ্যাসকেট, ডিম্পল বোর্ড এবং এসবিএস মেমব্রেন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কাঠামোর স্থায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি জল চুঁইয়ে ঢোকার সমস্যা কমবে বলে রেল মন্ত্রকের দাবি।
ভিওয়ান্ডিতে পনভেল-ভাসাই রেলপথে আরও জটিল একটি কাজ সম্পন্ন করেছে রেল। এখানে সাতটি চালু রেললাইনের নীচে প্রথমবার জলরোধী ফুট সাবওয়ে তৈরি করা হয়েছে। চারটি বড় প্রি-কাস্ট আরসিসি সেগমেন্ট হাইড্রলিক পুশিং প্রযুক্তির সাহায্যে রেললাইনের নীচে বসানো হয়।
ভারী মালগাড়ির চাপের কথা মাথায় রেখে সাবওয়েটির নকশা করা হয়েছে। ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের মান অনুযায়ী তৈরি এই কাঠামো ভারী রেল চলাচলের চাপ সহ্য করতে সক্ষম। জলরোধী করার জন্য একাধিক স্তরের সিলিং এবং সুরক্ষামূলক মেমব্রেন ব্যবহার করা হয়েছে।
নতুন সাবওয়ে দিয়ে পথচারী ও দু’চাকার গাড়ির চালকেরা সব মরশুমে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। এতে ঢাকা অ্যাপ্রোচ, আলো, বায়ু চলাচল এবং জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রি-কাস্ট আরসিসি এবং হাইড্রলিক পুশিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জটিল নির্মাণকাজ কম সময়ে সম্পন্ন করার পাশাপাশি রেল চলাচলের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর স্থায়িত্বও বাড়ানো হচ্ছে। আহমেদাবাদ ও ভিওয়ান্ডির এই প্রকল্পগুলি আধুনিক, নিরাপদ এবং যাত্রী-কেন্দ্রিক রেল পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রেলের অগ্রগতির উদাহরণ।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য