
হাফলং (অসম) , ১২ সেপ্টেম্বর (হি স) : খাবারে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না কিংবা খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়ম— সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এ বার নজরদারি জোরদার করল প্রশাসন। নিরাপদ খাদ্য পরিবেশন এবং খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মাইবাং শহরে বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা পরিদর্শন অভিযান চালানো হল।
হাফলংয়ের যুগ্ম স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তার সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। শহরের বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান এবং অন্যান্য খাদ্য বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন পরিদর্শনকারী দলের সদস্যেরা।
অভিযানের সময় খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের জায়গার পরিচ্ছন্নতা, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের পদ্ধতি, খাবার ঢেকে রাখা হচ্ছে কি না, নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবহার এবং খাদ্য পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার মতো বিষয়গুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের গুণমান এবং নির্ধারিত খাদ্য সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, তাও দেখা হয়।
পরিদর্শনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও সচেতন করা হয়। খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ জল ব্যবহার করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বিক্রি না করার জন্য তাঁদের পরামর্শ দেওয়া হয়। খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকলকে নির্ধারিত খাদ্য সুরক্ষা বিধি কঠোর ভাবে মেনে চলার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, মাইবাংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে প্রতিদিন বহু মানুষ হোটেল, রেস্তরাঁ ও বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকে খাবার কেনেন। ফলে খাদ্যের গুণমান এবং দোকানগুলির পরিচ্ছন্নতার উপর নিয়মিত নজরদারি থাকা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, খাদ্য সুরক্ষা কেবল ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব নয়, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যও সরাসরি জড়িত। তাই নিয়ম মেনে নিরাপদ খাদ্য পরিবেশন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্রেতাদেরও খাদ্যপণ্যের গুণমান ও মেয়াদ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
মাইবাংয়ে এই ধরনের খাদ্য সুরক্ষা পরিদর্শন আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গিয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়লে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব