তরুণদের রক্তদানে ত্রিপুরায় নবজাগরণ : মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই রক্তদানের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে ত্রিপুরা এক নবজাগরণ সৃষ্টি করেছে। যুব সমাজের এই শক্তি ও উদ্যমকে সমাজ গঠনের কাজে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সমাজ আরও সুন্দর ও মানবিক হয়ে উঠবে।
রক্তদান শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী


আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলেই রক্তদানের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে ত্রিপুরা এক নবজাগরণ সৃষ্টি করেছে। যুব সমাজের এই শক্তি ও উদ্যমকে সমাজ গঠনের কাজে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে সমাজ আরও সুন্দর ও মানবিক হয়ে উঠবে। শনিবার রামকৃষ্ণ মিশন ধলেশ্বর শাখার উদ্যোগে স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেগা রক্তদান শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিমত ব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার শিকাগো শহরে বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন যুবনায়ক স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের স্মরণে প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। এরই অঙ্গ হিসেবে এদিন ধলেশ্বরে রামকৃষ্ণ মিশন শাখায় মেগা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক ও মানবিক চেতনা জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ মিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুর্যোগের সময় মানুষের সেবায় রামকৃষ্ণ মিশন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। করোনা অতিমারির সময়ও সংগঠনের সেবামূলক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের সঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ধলেশ্বরে রামকৃষ্ণ মিশনের উদ্যোগে একটি বিদেশি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে রাজ্যের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার ত্রিপুরায় অঙ্গ প্রতিস্থাপন পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে কিডনি প্রতিস্থাপন শুরু হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে হার্ট প্রতিস্থাপনও শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অঙ্গদানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটা সময়ে অর্থের বিনিময়ে রক্তদান করার প্রবণতা ছিল। বর্তমানে মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেক বেড়েছে এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। একইভাবে ভবিষ্যতে কিডনি, হৃদপিণ্ড, চক্ষু-সহ বিভিন্ন অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও মানুষ নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ত্রিপুরার রক্তদান আন্দোলনের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদানের ক্ষেত্রে ত্রিপুরা দেশের মধ্যে একটি নবজাগরণ সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের এই সাফল্যের কথা গোটা দেশ জানে। এই আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হল রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম। তাঁদের মধ্যে সমাজের জন্য কিছু করার প্রবল ইচ্ছা এবং মানসিকতা রয়েছে। তরুণদের এই শক্তি ও উদ্যমকে সামাজিক কাজে আরও বেশি করে যুক্ত করা গেলে আগামী দিনে সমাজ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিনের রক্তদান শিবিরে স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে আসা রক্তদাতাদের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তাঁদের শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং কে কতবার রক্তদান করেছেন, সে সম্পর্কেও জানতে চান। তরুণদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে মানবিক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande