
হুগলি , ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.): চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল পুরসভা চত্বরে। বকেয়া মজুরি মেটানো এবং কর্মীদের কাজ থেকে না বসানোর দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে নেমেছেন অস্থায়ী কর্মীরা। তবে জরুরি পরিষেবা চালু রেখেই মজুরি না নিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার সকালে পুরসভার মূল গেটের সামনে একটি মৃত কুকুর পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাকে ঘিরে পুরসভা চত্বরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অন্যদিকে, অস্থায়ী কর্মীদের আন্দোলনের জেরে সকাল থেকেই পুরসভার বিভিন্ন দফতরের কাজকর্ম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর বেলা ১১টা নাগাদ পুরসভার তালা খোলা হয়। কর্মীরা হাজিরা খাতায় সই করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, চুঁচুড়া পুরসভায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি থাকার কথা জানিয়ে তাঁদের একাংশকে কাজ থেকে বসিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকেও তিন ধরনের অস্থায়ী কর্মচারী ও শ্রমিককে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
কর্মীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা পুরসভার হয়ে কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী, কর সংগ্রাহক এবং নিরাপত্তারক্ষীরাও রয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, এতদিন কাজ করার পর তাঁদের কী অপরাধ? কাউকে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া যাবে না—এই দাবিতেই তাঁরা আন্দোলনে অনড় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, পুরসভা কর্তৃপক্ষের তরফে অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মীর বিষয়টি সামনে আসায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে কারা প্রকৃত কর্মী এবং কারা নথিতে থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে কাজ করছেন না—এমন ‘ভুতুড়ে শ্রমিক’ চিহ্নিত করতেও পুর কর্তৃপক্ষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
বেতন বকেয়া মেটানো এবং কোনও অস্থায়ী কর্মীকে কাজ থেকে না বসানোর দাবিতে আন্দোলনকারীরা তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA