বিনিয়োগের প্রস্তাব নয়, বাস্তবায়নই এখন লক্ষ্য
১.৩০ লক্ষ কোটি টাকার ৪৫৮ মউ—নির্দিষ্ট সময়সীমায় প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী


আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ত্রিপুরায় বিনিয়োগের যে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে রূপ দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। প্রতিটি বিনিয়োগ প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত সমঝোতাপত্রগুলির বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের জিএসডিপি বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

বৈঠকের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর সচিব তথা শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্তে স্বচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬-এর পরবর্তী পর্যায়ে মউগুলির অগ্রগতি, বিভিন্ন দফতরের সমন্বয়, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরেন। ত্রিপুরায় শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র এবং রাজ্যের নিজস্ব সম্পদ ও পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরির বিভিন্ন দিকও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

বিভিন্ন দফতরের সচিবরা তাঁদের দফতরের আওতাধীন মউ স্বাক্ষর ও বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রস্তাব ও ডিপিআর সংগ্রহ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬-এর মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের জন্য ৪৫৮টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ত্রিপুরাকে বিনিয়োগ ও শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেন তিনি।

পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ, ডেয়ারি, লাইভস্টক এবং ইভি চার্জিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। ত্রিপুরার প্রাকৃতিক ও কৃষিজ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্প গড়ে তোলার উপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিনিয়োগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জমি, বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি দফতরে নির্দিষ্ট নোডাল অফিসার রেখে তাঁদের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং আন্তঃদফতরীয় সমন্বয় নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সমন্বিত করার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মউ স্বাক্ষরের পর তার বাস্তবায়নই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বিনিয়োগকারীদের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে এবং প্রকল্পগুলিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

বৈঠকে মুখ্যসচিব জেকে সিনহা বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলির ক্ষেত্রে নিয়মিত ফলো-আপ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর গুরুত্ব দেন। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রেখে জমি, পরিকাঠামো, অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় আন্তঃদফতরীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির উপরও তিনি জোর দেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande