
কলকাতা, ১৯ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মিলন প্রধানের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাপানউতোর সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর গ্রেফতারের একদিন পর, শনিবার সিআইডি এক বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে যে মিলন প্রধান গুরুতর ও জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজ্যের দুটি ভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো মারাত্মক ধারায় মোট চারটি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। সিআইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, মিলন প্রধান সাধারণ কোনও রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং তিনি একজন চিহ্নিত ও অভ্যাসগত অপরাধী যিনি গত ১৯ বছর ধরে আইনের চোখ এড়িয়ে পলাতক ছিলেন। খুন, অপহরণ, প্রাণঘাতী হামলা, দাঙ্গা বাঁধানো এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার তাঁর পুরোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম থানা এলাকার অন্তর্গত গাংরা গ্রামের বাসিন্দা মিলন প্রধানের অপরাধের রেকর্ড ২০০৭ সালের বহুল আলোচিত নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় থেকেই রয়েছে। রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, চারটি ভিন্ন জঘন্য ফৌজদারি মামলায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং পার্শ্ববর্তী খেজুরি থানায় একটি মামলা রয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, বেআইনি অনুপ্রবেশ, মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গাহাঙ্গামা এবং অস্ত্র আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু রয়েছে।
সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল নন্দীগ্রাম থানায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন, দাঙ্গা ও অস্ত্র আইনের ২৭ নম্বর ধারায় প্রথম বড় মামলাটি দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে, ২০০৭ সালের ৩০ জুলাই খেজুরি থানায় অবৈধ অস্ত্র রাখা ও দাঙ্গার অভিযোগে দ্বিতীয় মামলা হয়। একই বছরের ৮ নভেম্বর এবং ১৫ নভেম্বর নন্দীগ্রাম থানায় আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যা এবং প্রমাণ লোপাটের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ সমস্ত মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিটও দাখিল করেছিল, যেখানে মিলন প্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পলাতক’ ঘোষণা করা হয়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি গত ১৯ বছরে মিলন প্রধানকে বহুবার গ্রেফতারের চেষ্টা করলেও প্রতিবারই তিনি আত্মগোপন করতে সক্ষম হন। সংশ্লিষ্ট আদালতে পুলিশ বারবার রিপোর্ট জমা দিয়ে জানিয়েছিল যে অভিযুক্ত ক্রমাগত আত্মগোপন করে নিজের পরিচয় গোপন রাখছেন। এত বছর ধরে অভিযুক্ত পলাতক থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস দল তাঁকে নন্দীগ্রামের মতো সংবেদনশীল আসন থেকে বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী মনোনীত করে।
একই সঙ্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পক্ষ থেকে মিলন প্রধানকে তড়িঘড়ি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন বড়সড় রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই ধরনের চিহ্নিত পলাতক অপরাধীকে নির্বাচনী ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার কৌশলটির পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার পুলিশ মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার পর থেকেই সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। এই পদক্ষেপকে স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত এবং গণতন্ত্রের জন্য কালো দিন বলে আখ্যা দিয়েছে দলটি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সন্তোষ মধুপ