
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ২১ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ভুয়ো গুগল পে অ্যাপের মাধ্যমে পেমেন্টের নকল প্রমাণ দেখিয়ে পোশাক নিয়ে পালানোর অভিযোগ উঠেছে যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগর শহরের রানাপ্লাজা মার্কেট এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় এই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ দোকান মালিকের।
জানা গেছে, মধ্য নয়াপাড়ার বাসিন্দা শিবেন দাসের 'শাইনিজ' কাপড়ের দোকানে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ এক যুবক ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক তরুণী আসেন। অভিযোগ, যুবকটি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। দোকানে ঢুকে তাঁরা বিভিন্ন পোশাক দেখার পর একটি কুরিয়ান ফ্রক পছন্দ করেন। পোশাকটির মূল্য ছিল ১,৪৫০ টাকা।
পোশাক পছন্দ হওয়ার পর ওই যুবক নগদ অর্থের পরিবর্তে গুগল পে-এর মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করার কথা জানান। এরপর দোকানের কিউআর কোড স্ক্যান করে ১,৪৫০ টাকা পেমেন্ট করার প্রক্রিয়া দেখানো হয়। দোকান মালিকের দাবি, যুবকের মোবাইলের স্ক্রিনে পেমেন্ট ‘সাকসেসফুল’ হয়েছে বলেও দেখানো হয়।
পেমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করে প্রথমে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেননি দোকান মালিক। সেই সুযোগে ওই যুবক ও তরুণী পোশাকটি নিয়ে দ্রুত দোকান থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেও দোকানের সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে ১,৪৫০ টাকা জমা না পড়ায় সন্দেহ তৈরি হয় শিবেন দাসের মনে।
এরপর তিনি পেমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। তখনই তাঁর সন্দেহ হয়, গুগল পে-এর আদলে তৈরি কোনও ভুয়ো অ্যাপ ব্যবহার করে পেমেন্ট সফল হওয়ার নকল প্রমাণ দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে কোনও টাকা পরিশোধ না করেই মোবাইলের স্ক্রিনে সফল লেনদেনের ছবি বা বার্তা দেখিয়ে পোশাক নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর দোকান মালিক দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। তাঁর দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত যুবক ও তাঁর সঙ্গে থাকা তরুণীর দোকানে আসা, পোশাক পছন্দ করা এবং পরবর্তীতে পোশাক নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য রয়েছে।
শিবেন দাস জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি ধর্মনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্টের নামে এ ধরনের প্রতারণা ঠেকাতে লেনদেনের টাকা অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে কি না যাচাই না করে পণ্য হস্তান্তর না করার বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ