জোলাইবাড়িতে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৮ বছরের শিশুর, উধাও দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাইক ঘিরে রহস্য
জোলাইবাড়ি (ত্রিপুরা), ২১ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : গণেশ পুজো দেখতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল আট বছরের শিশুর। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জোলাইবাড়ি ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় রবিবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুর নাম ত
নিহত শিশু তুষার মজুমদার


জোলাইবাড়ি (ত্রিপুরা), ২১ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : গণেশ পুজো দেখতে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল আট বছরের শিশুর। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জোলাইবাড়ি ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় রবিবার রাত আনুমানিক ৯টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুর নাম তুষার মজুমদার। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে তার বাবা-মা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোলাইবাড়ির লতুয়াটিলা এলাকার বাসিন্দা সুশাঙ্কর মজুমদার স্ত্রী রেশমি রিয়াং মজুমদার এবং আট বছরের ছেলে তুষারকে নিয়ে একটি বাইকে করে জোলাইবাড়িতে গণেশ পুজো দেখতে যাচ্ছিলেন। ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর আচমকাই বাইকের সামনে একটি কুকুর চলে আসে। কুকুরটিকে বাঁচাতে গিয়ে বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। মুহূর্তের মধ্যেই বাইকটি রাস্তায় ছিটকে পড়ে এবং তিনজনই গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জোলাইবাড়ি দমকল বাহিনীর কর্মীরা। তাঁরা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে জোলাইবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।

কিন্তু শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তুষার মজুমদারের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বর্তমানে তুষারের বাবা সুশাঙ্কর মজুমদার এবং মা রেশমি রিয়াং মজুমদার শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে নিহত শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তুষারের জেঠু শংকর মজুমদার দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

তবে দুর্ঘটনার পর থেকেই আরও একটি বিষয় ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, যে বাইকে করে তুষার মজুমদার ও তার বাবা-মা যাচ্ছিলেন, দুর্ঘটনার পর সেই বাইকটি ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাইকটি কে বা কারা ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে গেল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

একদিকে কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার দাবি, অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর বাইকটি ঘটনাস্থল থেকে উধাও—দুই বিষয়কে ঘিরেই স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। বাইকটি কীভাবে এবং কারা সরিয়ে নিয়ে গেল, তার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দুর্ঘটনার পর বাইকটি কোথায় গেল, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। দুর্ঘটনার এই রহস্যের কিনারা করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande