দিঘির জলে ‘জলমহলে কৃষ্ণদুর্গা’, কাঞ্চনবাড়িতে অভিনব দুর্গাপুজোর আয়োজন
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২১ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে শিউলির গন্ধ। চারদিকে যখন দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষা, তখনই অভিনব ভাবনায় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ঊনকোটি জেলার কাঞ্চনবাড়ির ইন্ডিয়া ক্লাব। এবার দিঘির জলের উপরেই
জলাশয়ে পুজোমণ্ডপ


কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ২১ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে শিউলির গন্ধ। চারদিকে যখন দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষা, তখনই অভিনব ভাবনায় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ঊনকোটি জেলার কাঞ্চনবাড়ির ইন্ডিয়া ক্লাব। এবার দিঘির জলের উপরেই তৈরি হচ্ছে গোটা দুর্গাপুজোর মণ্ডপ। ‘জলমহলে কৃষ্ণদুর্গা’ থিমে কাঞ্চনমালা দিঘির জলরাশির উপর গড়ে উঠছে এই ব্যতিক্রমী পুজো মণ্ডপ। পুজোর আগেই এই অভিনব আয়োজনকে ঘিরে এলাকায় দর্শনার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই গতি বাড়ছে মণ্ডপ নির্মাণের কাজে। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দিঘির জলের উপর চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ। জলাশয়ের উপর ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন শিল্পী ও শ্রমিকরা। তাঁদের লক্ষ্য, পুজোর দিনগুলিতে দর্শনার্থীদের সামনে জলরাশির মাঝে দেবী দুর্গার এক অনন্য আবহ তুলে ধরা।

ক্লাব সদস্য দীপক সরকার জানান, এবছর ইন্ডিয়া ক্লাবের দুর্গাপুজো ৪১ বছরে পা দিচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই দিঘির জলের উপর ‘জলমহলে কৃষ্ণদুর্গা’ থিমে মণ্ডপ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার কাজ করছেন নবদ্বীপের শিল্পীরা। অন্যদিকে মহকুমার মাছমারা এলাকার মৃৎশিল্পীর হাতে তৈরি হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।

শুধু মণ্ডপ কিংবা প্রতিমাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না এবারের আয়োজন। পুজোর প্রতিদিন দুপুরে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে অন্নভোগের ব্যবস্থা। দিঘির জলের উপর দিয়ে প্রতিমা দর্শনের জন্য তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী রাস্তা। প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা বাজেট নিয়ে এবছরের পুজোর আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান ক্লাব সদস্যরা।

তবে জলের উপর পুজোর আয়োজন হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের পাশাপাশি জলাশয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপ চত্বরে নৌকার ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে এনডিআরএফ-এর সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানান দীপক সরকার।

ইন্ডিয়া ক্লাবের সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারাও এবছর অব্যাহত থাকবে। পুজোর দিনগুলিতে স্থানীয় হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, প্রবীণ নাগরিক ও শিক্ষকদের সংবর্ধনা এবং এলাকার সাফাইকর্মীদের নতুন পোশাক দেওয়ার কর্মসূচি থাকছে। পুজোকে শুধুমাত্র উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাও তুলে ধরতে চান উদ্যোক্তারা।

এদিকে দিঘির জলের উপর ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে মণ্ডপ। জলরাশির মাঝে নির্মীয়মাণ এই পুজো মণ্ডপ দেখতে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে ‘জলমহলে কৃষ্ণদুর্গা’র অভিনব রূপ দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় গত বছরের তুলনায় আরও বাড়বে বলে আশাবাদী ইন্ডিয়া ক্লাবের কর্মকর্তারা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande