করাচির বিপণন কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, দমকলকর্মী-সহ মৃত ছয়
ইসলামাবাদ, ১৮ জানুয়ারি (হি.স.) : পাকিস্তানের করাচির এমএ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত একটি বিপণন কেন্দ্র (গুল শপিং প্লাজা)-য় শনিবার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক দমকলকর্মী-সহ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন গুরুতরভাবে ঝলসে গিয়েছেন, যাঁদের মধ্
করাচির শপিং প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, দমকলকর্মী-সহ মৃত ছয়


ইসলামাবাদ, ১৮ জানুয়ারি (হি.স.) : পাকিস্তানের করাচির এমএ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত একটি বিপণন কেন্দ্র (গুল শপিং প্লাজা)-য় শনিবার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক দমকলকর্মী-সহ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন গুরুতরভাবে ঝলসে গিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আগুনে পুড়ে কয়েকশো দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পৌঁছেছে কয়েকশো কোটি টাকায়।

জানা গেছে, এখনও বহু মানুষ ভিতরে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আগুনের তীব্রতায় ভবনের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং যেকোনও মুহূর্তে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিপণন কেন্দ্রের একতলায় (গ্রাউন্ড ফ্লোর) একটি ফুলের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত দ্বিতলে ও আশপাশের দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে।

ঘন কালো ধোঁয়া, দমবন্ধকর পরিস্থিতি এবং আতঙ্কের জেরে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। মৃতদের মধ্যে তিন জনের পরিচয় আমির, আসিফ ও ফারাজ নামে জানা গেছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া আহতদের করাচির বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার সিন্ধু প্রদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জিয়াউল হাসান লাঞ্জার জানিয়েছেন, আগুন নেভাতে ১৪টি দমকলের গাড়ি একযোগে কাজ করছে। পরে জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানায়, মোট ২০টি দমকলের গাড়ি এবং অন্যান্য অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফায়ার ফাইটিং ফোমও ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভবনের পিছনের একটি অংশ ধসে পড়ায় উদ্ধারকাজ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

করাচি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির অভিযোগ করেন, প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এত বেড়েছে। তাঁর দাবি, বিপণন কেন্দ্রর ভিতরে এখনও ৮০ থেকে ১০০ জন আটকে থাকতে পারেন। তিনি জানান, বিপণন কেন্দ্রয় মোট ১,২০০টি দোকান ছিল, যার অধিকাংশই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত কেবল সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী বা করাচির মেয়রের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, করাচির মেয়র দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এমএ জিন্নাহ রোডের আঙ্কলেসারিয়া চক থেকে সেন্ট্রাল প্লাজার মাঝের অংশ যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করাচি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, যানবাহন তিব্বত চক হয়ে জুবিলির দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande