



গুয়াহাটি, ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-এর বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য রওয়ানা দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
দাভেসের উদ্দেশে যাত্রাপথে আজ সোমবার জুরিখ বিমানবন্দরে অবতরণ করলে মুখ্যমন্ত্রীকে প্ৰবাসী ভারতীয়রা উষ্ণ স্বাগত-অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডলে বিমানবন্দরে উষ্ণ-অভ্যর্থনা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্ৰী চন্দ্ৰবাবু নাইডু, সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্ৰপতি থারমান সম্মুগরত্নম, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম এমএনকে গারুর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
এক্স-এ সকলের নাম ও ছবি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘তাঁদের সঙ্গে মিলিত হতে পেরে গৌরব অনুভব করছি। অভ্যৰ্থনায় আমি গভীরভাবে অভিভূত। তাঁদের সকলের আশীৰ্বাদ ও স্নেহ মাননীয় শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সবল নেতৃত্বে বিশ্বস্তরে ভারতের শ্ৰেষ্ঠত্ব প্ৰদৰ্শনে আমাদের প্ৰচেষ্টাকে প্রতিফলিত করছে।’
সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্ৰপতি সম্মুগরত্নমের সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘ওয়াৰ্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৬-এর অংশ হিসেবে জুরিখে আজ সিঙ্গাপুরের মহামান্য রাষ্ট্ৰপতি থারমান সম্মুগরত্নমের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ায়ও আমি গৌরবান্বিত। সবসময়ের মতোই ভারতের প্ৰতি তাঁর উষ্ণ প্রকাশভঙ্গী এবং অভিবাদন আমাদের মত বিনিময় অধিক উজ্জীবিত করে তুলেছে।’
আজ ১৯ জানুয়ারি থেকে ২৩ জানুয়ারি (২০২৬) পর্যন্ত পাঁচদিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার শীর্ষ নির্বাহী, বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)-র মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন মুখ্যমন্ত্ৰী ড. শৰ্মা।
এদিকে, আজ সোমবার ভোররাত জুরিখগামী বিমানে ওঠার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘অসমের স্বপ্ন প্রতিদিন নতুন ডানা মেলছে। আগামী কয়েক দিনে রাজ্যের উন্নয়নযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করতে অর্থবহ আলোচনা ও চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছি।’
দাভোসে অসমের উপস্থিতি ভারতের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অতীতে সাধারণত দেশের অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর রাজ্যগুলিকেই এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্মেলনে তুলে ধরা হতো। এ বছর প্রথম সেই তালিকায় স্থান পেয়েছে অসম, যাকে রাজ্যের আর্থিক রূপান্তরের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, সম্মেলন চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার অন্তত ১৭টির বেশি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। রয়েছে একাধিক মউ চুক্তিতে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা। তাঁর আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে, উদীয়মান শিল্পের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, ১০ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পর্যটন সম্ভাবনা এবং স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন। পাশাপাশি তিনি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সামনে অসমের প্রশাসনিক সংস্কার, শিল্প সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন উদ্যোগ তুলে ধরবেন বলে বিভিন্ন সূত্রের খবর।
সম্প্রতি সফলভাবে সম্পন্ন ‘অ্যাডভান্টেজ অসম ২.০ বিনিয়োগ ও পরিকাঠামো সম্মেলন’-এর পর মুখ্যমন্ত্রীর দাভোস সফরকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এক বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের আরও খবর, অসমের প্রতিনিধি দল সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা তুলে ধরবে এবং অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে, যা রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের পথ খুলে দিতে পারে। ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে, অসম নিজেকে দেশের অন্যতম দ্রুত বিকাশমান রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম একটি অলাভজনক সংস্থা, যা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। চলতি বছরের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করাই এবারের মূল লক্ষ্য। সম্মেলনে ভূ-রাজনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, আর্থিক নীতি ও বিনিয়োগ কৌশল নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে বলে সূত্রের খবরে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, দাভোসে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে অংশগ্ৰহণকারী হিমন্তবিশ্ব শর্মাই প্রথম কোনও অসমিয়া মুখ্যমন্ত্রী, যা রাজ্যের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস